- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সামরিক শাসক জনগণকে শোষণ ও নির্যাতন শুরু করলে জনগণ শাসকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-আন্দোলন শুরু করে। সামরিক শাসক জনগণের অধিকারের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে তাদের নেতাকে গ্রেফতার করে। একপর্যায়ে ছাত্র, জনতা, রাজনীতিবিদসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে এসে ব্যাপকভাবে আন্দোলন শুরু করে। অবশেষে গণআন্দোলনের ফলে স্বৈরশাসক পদত্যাগ করে অন্য একজন সামরিক শাসকের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে।
উক্ত আন্দোলনের গুরুত্ব ও প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের নামক আন্দোলনের গুরুত্ব প্রভাব সুদূরপ্রসারী।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর পূর্বে তিনি ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা তুলে নেন। জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয় ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে। গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে। ফলে ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দল ৩১০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাষে অবস্থান গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাঙালি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে। ফলে বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় হয় বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের। উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্যসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, উদ্দীপকের আন্দোলনটি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানকেই নির্দেশ করে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এই আন্দোলনের প্রভাবেই বাঙালিরা স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করেছে।

