- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সমাজে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আগ্রাসন, দেখে রফিক সাহেব খুবই চিন্তিত। পরবর্তী প্রজন্ম যাতে উক্ত আগ্রাসনের কুফল উপলব্ধি করে তা থেকে মুক্তি পায়, সে লক্ষ্যে তিনি এলাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যেখানে শৈশবেই শিক্ষার্থীরা নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা লাভ করতে পারবে।
রফিক সাহেব কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন? উক্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি আলোচনা কর।
রফিক সাহেব যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন, সে প্রতিষ্ঠানের সাথে ইসলাম শিক্ষার বুনিয়াদ ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মক্তবের মিল রয়েছে।
মক্তবে ইসলামের প্রাথমিক মৌলিক ও অতীব প্রয়োজনীয় জ্ঞান, কুরআন শিক্ষা, আদব, আখলাক শিষ্টাচার, সভ্যতা, নম্রতা, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা, হামদ-নাত, মাসনুন দোয়া, হালাল-হারাম, পাক-পবিত্রতা ইত্যাদি নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হয়। যার সাথে রফিক সাহেবের উদ্যোগকৃত প্রতিষ্ঠানটির মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের রফিক সাহেব পরবর্তী প্রজন্মকে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে মুক্তির জন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যেখানে শৈশবেই শিক্ষার্থীদের নীতি নৈতিকতার শিক্ষা লাভ করে উত্তম চরিত্রের বীজ বপণ করে। সুতরাং বলা যায়, রফিক সাহেবের উদ্যোগকৃত প্রতিষ্ঠানটি হলো মক্তব। যার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে পারবে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
দারুল আরকাম কী?
দারুল আরকাম মহানবি (স.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সর্বপ্রথম একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
ইসলামে ইলমের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতের মুক্তির জন্য ইসলামে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম।
ইসলামে জ্ঞানার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত মানুষ ও পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হওয়ার জন্য জ্ঞানার্জনের বিকল্প শেই। আল-কুরআনের বহু আয়াতে এবং রাসুলুল্লাহ (স)-এর বিভিন্ন হাদিসে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ। সৃষ্টির শুরুতে ফেরেশতাদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার মূলেও ছিল জ্ঞান। ইসলামের সঠিক জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে পাপমুক্ত করে জান্নাতের উপযুক্ত করে গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্কৃতির বিপরীতে ইসলামের ব্যাবহারিক দিকসমূহ পর্যালোচনা কর।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্কৃতি তথা পাশ্চাত্য সংস্কৃতির বিপরীতে ইসলামি সংস্কৃতির ব্যাবহারিক দিকগুলো অনেক তাৎপর্যপূর্ণ।
মুসলিম জাতির জাতীয় ও ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামি সংস্কৃতির অনুসরণ খুবই জরুরি। আর রফিক সাহেব এ সংস্কৃতির গুরুত্বারোপ করেন। উদ্দীপকে রফিক সাহেব পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আগ্রাসন দেখে খুবই চিন্তিত। কেননা এ সংস্কৃতিতে কোনো উপকার নেই। এর মাধ্যমে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এই সংস্কৃতির মাধ্যমে ব্যক্তি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।
ইসলামি সংস্কৃতির ব্যাবহারিক দিকসমূহ হলো ভালো কাজের শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া, পারস্পরিক দেখা হলে সালাম দেওয়া, সন্তান জন্মের পর আজান দেওয়া, আকিকা দেওয়া, সুন্দর নাম রাখা, ইসলামি বিধান মেনে চলা, ইসলামি অনুষ্ঠানাদিতে কুরআন তেলাওয়াত, নারী-পুরুষ উভয়ের পর্দা মেনে চলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, নাচগান ও অনৈসলামিক কার্যকলাপ পরিহার করা ইত্যাদি।
সুতরাং ইসলামি সংস্কৃতিকে মানবকল্যাণ ও সাফল্যের নিশ্চয়তা বিধায়ক ঐশী সংস্কৃতি বলা যায়। তাই মানবজাতির পার্থিব কল্যাণ এবং পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য জীবনের সব পর্যায়ে ইসলামি সংস্কৃতির অনুকরণ, অনুসরণ ও বাস্তবায়ন অনিবার্য।

