- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়-আবদুল লতিফের কথা ও সুরারোপিত এ গানটি অহনা যতবারই শোনে ততবারই তার মনে হয় সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা। নিজের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতিকে রক্ষার জন্য বাংলায় দামাল অকুতোভয় ছেলেদের কী অদম্য মনোবল। সত্যি সে অনেক ভাগ্যবান এ দেশ মাতৃকায় জন্মেছিল বলে।
কত সাল থেকে শহিদ দিবস দেশব্যাপী পালিত হয়ে আসছে?
১৯৫৩ সাল থেকে শহিদ দিবস্ দেশব্যাপী পালিত হয়ে আসছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
তমদ্দুন মজলিস গঠন করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ১৯৪৭সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করা। এ সংগঠনের যুবকর্মী সম্মেলনে বাংলাভাষাকে শিক্ষা। ও আইন আদালতের বাহন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
উদ্দীপকে উত্তাল দিনগুলো কোন্ত ঘটনাকে নির্দেশ করে? উক্ত ঘটনার পটভূমি ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে ছক-১-এ ভাষা আন্দোলনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ভাষা আন্দোলন পশ্চিম পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক বৈষম্যের পটভূমিতে সংঘটিত হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা, সংস্কৃতি কোনো কিছুরই মিল ছিল না। ফলে পাকিস্তান নামক এ নতুন রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী প্রথমেই বাঙালিকে শোষণ করার কৌশল হিসেবে বাংলা ভাষার ওপর আঘাত হানে। ১৯৪৮ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন এবং বাংলাকেও অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। কিন্তু মুসলিম লীগের সকল সদস্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এ ঘটনায় পূর্ব বাংলার ছাত্রসমাজ ব্যাপক প্রতিবাদ করতে থাকে। ছাত্ররা ২৬ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে ছাত্র ধর্মঘট পালন করে এবং ২ মার্চ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। উপস্থিত ছাত্ররা তীব্র প্রতিবাদে না না-ধ্বনি দিয়ে ওঠে। এসময় সারা পূর্ব পাকিস্তানেই ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৪৮ সালের ১৮ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এবং ১৯৫২ সালে খাজা নাজিমুদ্দীনের বক্তব্যে জিন্নাহর কথার প্রতিধ্বনি হলে ভাষা আন্দোলন নতুন মাত্রা ও সর্বাত্মক রূপ লাভ করে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ছক-১ এ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি জাগ্রত করা হয়েছে। যার পটভূমি ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক বৈষম্য।
উদ্দীপকের শেষে অহনার বক্তব্যের যৌক্তিকতা নিরূপণ কর।
উদ্দীপকের শেষে অহনার বক্তব্যটি যথার্থ।
মাতৃভাষার জন্য জীবন দেওয়ার মতো আত্মত্যাগের ইতিহাস দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না। ভাষা আন্দোলনের ফলে নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে পূর্ব বাংলার বাঙালি এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠী মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মতো সাহস ও আত্মপ্রত্যয় খুঁজে পায়। পরবর্তীকালে এ আন্দোলন সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। এ ভাষ্য আন্দোলন মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে তাদের স্বাধীনতা সম্পর্কে চেতনা জাগিয়ে তোলে। এরই হাত ধরে বাঙালির চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জিত হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে এ আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রতিবাদ, ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারিতে গণপরিষদে দাবি উত্থাপন: রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন: ১৯ মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর ঘোষণার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ: ১৯৫২ সালে ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট: ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ছাত্র বিলোপ প্রদর্শন: ২১ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট পালনে সালাম, বরকত, জব্বার, রফিকদের আত্মদান; ২২ ফেব্রুয়ারিতে শফিউরের আত্মত্যাগ, ২৩ ফেব্রুয়ারিতে শহিদ মিনার এবং ধারাবাহিকভাবে হাজারো গল্প, কবিতা ও সাহিত্য রচনা প্রভৃতি বাংলার দামাল অকুতোভয় সাহসীদের অমর ইতিহাস অহনাকে যে ভাবনা দিয়েছে তা সকল বাঙ্গালির।
পরিশেষে বলা যায়, সত্যি অহনা অনেক ভাগ্যবান, এই দেশ মাতৃকায় জন্মেছিল বলে।

