- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়-আবদুল লতিফের কথা ও সুরারোপিত এ গানটি অহনা যতবারই শোনে ততবারই তার মনে হয় সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা। নিজের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতিকে রক্ষার জন্য বাংলায় দামাল অকুতোভয় ছেলেদের কী অদম্য মনোবল। সত্যি সে অনেক ভাগ্যবান এ দেশ মাতৃকায় জন্মেছিল বলে।
উদ্দীপকের শেষে অহনার বক্তব্যের যৌক্তিকতা নিরূপণ কর।
উদ্দীপকের শেষে অহনার বক্তব্যটি যথার্থ।
মাতৃভাষার জন্য জীবন দেওয়ার মতো আত্মত্যাগের ইতিহাস দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না। ভাষা আন্দোলনের ফলে নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে পূর্ব বাংলার বাঙালি এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠী মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মতো সাহস ও আত্মপ্রত্যয় খুঁজে পায়। পরবর্তীকালে এ আন্দোলন সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। এ ভাষ্য আন্দোলন মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে তাদের স্বাধীনতা সম্পর্কে চেতনা জাগিয়ে তোলে। এরই হাত ধরে বাঙালির চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জিত হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে এ আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রতিবাদ, ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারিতে গণপরিষদে দাবি উত্থাপন: রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন: ১৯ মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর ঘোষণার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ: ১৯৫২ সালে ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট: ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ছাত্র বিলোপ প্রদর্শন: ২১ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট পালনে সালাম, বরকত, জব্বার, রফিকদের আত্মদান; ২২ ফেব্রুয়ারিতে শফিউরের আত্মত্যাগ, ২৩ ফেব্রুয়ারিতে শহিদ মিনার এবং ধারাবাহিকভাবে হাজারো গল্প, কবিতা ও সাহিত্য রচনা প্রভৃতি বাংলার দামাল অকুতোভয় সাহসীদের অমর ইতিহাস অহনাকে যে ভাবনা দিয়েছে তা সকল বাঙ্গালির।
পরিশেষে বলা যায়, সত্যি অহনা অনেক ভাগ্যবান, এই দেশ মাতৃকায় জন্মেছিল বলে।

