- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ও তাৎপর্য
:
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
চীনের দক্ষিণ অংশে উইঘুর সম্প্রদায়ের বসবাস। তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম আছে। প্রকাশ্যে তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, না করার জন্য চীন সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে। তাই উইঘুর সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব জাতীয়তা টিকিয়ে রাখার জন্য আন্দোলন শুরু করেছে।
৬ দফা দাবির যেকোনো দুটি দফা লেখ।
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। ছয় দফার অন্যতম দুটি দফা হলো-
১. পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাযীনে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার হবে। সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠান।
২. অঙ্গরাজ্যগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আধা-সামরিক বাহিনী গঠন করার ক্ষমতা দেওয়া।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
আমাদের জাতীয় শহিদ মিনার কোথায় অবস্থিত?
আমাদের জাতীয় শহিদ মিনার ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে অবস্থিত।
উল্লিখিত উদ্দীপক অনুসারে পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশে কোন আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল? সংক্ষেপে তার বর্ণনা দাও।
উদ্দীপক অনুসারে পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হওয়ার ঘটনাটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা 'বাংলা না উর্দু এ নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এক জনসভায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু ঘোষণা করলে উপস্থিত ছাত্র-জনতা তার প্রতিবাদ জানান। আবার বাঙালিরা তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাংলা ভাষায় পালন করলে পাকিস্তানিরা সেখানে হস্তক্ষেপ করে। গোঁড়া হিন্দুত্ববাদী হিসেবে পরিচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সকল গান, কবিতা পরিবেশন থেকে বাঙালিদের দূরে থাকার আদেশ দেয় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। কিন্তু কিছু বাঙালি রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতাগুলোকে নিজস্ব সংস্কৃতির অংশ হিসেবে মনে করত। তাই নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের জারিকৃত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করা - হয়। এর ফলে ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, চীনের উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের নিজস্ব ভাষা, ধর্ম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রকাশ করতে চাইলে চীন সরকার এসব কর্মকান্ড না করার জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করে। তাই উইঘুর সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব জাতীয়তা টিকিয়ে রাখার জন্য আন্দোলন শুরু করে, পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বাঙালি জাতির জীবনে উক্ত আন্দোলনের প্রভাবগুলো আলোচনা কর।
বাঙালি জাতির জীবনে উক্ত আন্দোলন তথা ভাষা আন্দোলনের যুগান্তকারী প্রভাব রয়েছে।
জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভাষা আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে। পাকিস্তানের প্রতি আগে যে মোহ ছিল, তা দ্রুত কেটে যেতে থাকে। নিজস্ব জাতিসত্তার সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে।
ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পরবর্তী ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে। এরপর ১৯৫৬ সালে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার তাদের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাঙালিরা ব্যাপক বৈষম্যের শিকার হয়। তাই বাঙালিদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালিদের জয় এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালের বাঙালিরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। এসব কর্মকাণ্ড ভাষা আন্দোলনের সাধ্যমেই সম্পাদিত হয়েছিল। সে কারণে বলা হয়ে থাকে, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ রোপিত হয়।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ভাষ্যকেন্দ্রিক ঐকা জাতীয়তাবাদের মূলভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

