- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭খ্রি.-১৯৭০খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ও তাৎপর্য
:
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
চীনের দক্ষিণ অংশে উইঘুর সম্প্রদায়ের বসবাস। তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম আছে। প্রকাশ্যে তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, না করার জন্য চীন সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে। তাই উইঘুর সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব জাতীয়তা টিকিয়ে রাখার জন্য আন্দোলন শুরু করেছে।
বাঙালি জাতির জীবনে উক্ত আন্দোলনের প্রভাবগুলো আলোচনা কর।
বাঙালি জাতির জীবনে উক্ত আন্দোলন তথা ভাষা আন্দোলনের যুগান্তকারী প্রভাব রয়েছে।
জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভাষা আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে। পাকিস্তানের প্রতি আগে যে মোহ ছিল, তা দ্রুত কেটে যেতে থাকে। নিজস্ব জাতিসত্তার সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে।
ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পরবর্তী ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে। এরপর ১৯৫৬ সালে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার তাদের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাঙালিরা ব্যাপক বৈষম্যের শিকার হয়। তাই বাঙালিদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালিদের জয় এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালের বাঙালিরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। এসব কর্মকাণ্ড ভাষা আন্দোলনের সাধ্যমেই সম্পাদিত হয়েছিল। সে কারণে বলা হয়ে থাকে, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ রোপিত হয়।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ভাষ্যকেন্দ্রিক ঐকা জাতীয়তাবাদের মূলভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

