- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব রহমান মিয়া একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তিনি তার দলের ইশতেহার ঘোষণা করেন, যা নিম্নরূপ:
১) একটি বিখ্যাত আইন সংহিতা প্রণয়ন করা হবে।
২) কৃষিকাজের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হবে।
৩) কৃষিকাজে অবহেলা কিংবা খাল খনন বা বাঁধ নির্মাণে অবহেলার জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
৪) নির্দিষ্ট ওজন ও পরিমাণ পদ্ধতি প্রচলিত হবে।
মিসরকে নীল নদের দান বলা হয় কেন?
মিসরীয় সভ্যতার বিকাশে নীল নদের ভূমিকা অগ্রগণ্য ছিল বলে মিসরকে নীল নদের দান বলা হয়।
মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারী জনগণ পানির প্রাপ্যতা, নীল নদকে কেন্দ্র করে কৃষি উৎপাদন, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ, পশু পালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয়কে মাথায় রেখে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহে বসতি স্থাপন করেছিল। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালের বন্যায় নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহে পলি জমা হতো এবং কৃষি উৎপাদনের মাধ্যমে মিসরীয় সভ্যতা সমৃদ্ধি লাভ করতে থাকে। তাই গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস মিসরের উৎকর্ষ দেখে নির্দ্বিধায় মিসরকে 'নীল নদের দান' বা 'The Gift of the Nile' বলে উল্লেখ করেছেন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
সুমেরীয়দের ধর্ম মন্দিরের নাম কী?
সুমেরীয়দের ধর্ম মন্দিরের নাম ছিল জিগুরাত।
জনাব রহমান মিয়া ঘোষিত ইশতেহারের সাথে তোমার পঠিত কোন সভ্যতার নীতিমালা সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ইশতেহারের সাথে প্রাচীন সুমেরীয় সম্রাট ভুঙ্গির প্রণীত আইনের সাদৃশ্য রয়েছে।
সুশৃঙ্খল ও সুন্দর সমাজব্যবস্থার জন্য আইনের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সুমেরীয় সভ্যতায় আইনের প্রবর্তন করা হয়েছিল। সুমেরীয় সম্রাট ডুঙ্গি সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য সুমেরীয় আইন প্রণয়ন করেন। ডুগি তার সাম্রাজ্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় প্রচলিত আইনগুলো সংগ্রহ করে, সংকলন করেন। অপরাধের জন্য অপরাধীকে সমান কষ্টদায়ক সাজা প্রদান সুমেরীয় ফৌজদারি আইনের বিধান ছিল। এক্ষেত্রে চোখের বদলে চোখ, অঙ্গের বদলে অজা কর্তনের বিধান ছিল।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজেকে বা তার পরিবারকে উদ্যোগী হয়ে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা করতে হতো। বিচারালয় তখন বাদি ও বিবাদির মধ্যে মধ্যস্থতাকারী বা সংযোগ স্থাপনকারী হিসেবে কাজ করতো।
উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচনি ইশতেহারে রাজনৈতিক দলের প্রধান জনাব রহমান মিয়া ঘোষণা দেন যে, তার দল নির্বাচনে জয়লাভ করলে কৃষিকাজের উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হবে। কর্তব্যে অবহেলা ও অন্যায়ের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তাই এ ইশতেহারকে সম্রাট ভুগির প্রণীত আইনের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।
জনাব রহমান মিয়ার ঘোষণা উক্ত সভ্যতার আংশিক প্রতিনিধিত্ব করে- এর যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ইশতেহার ঘোষণা প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতার আংশিক প্রতিনিধিত্ব করে- উক্তিটি যথার্থ।
বিশ্ব সভ্যতার অগ্রগতিতে যেসব সভ্যতা অসামান্য অবদান রেখেছে সেগুলোর মধ্যে সুমেরীয় সভ্যতা অন্যতম। বিশেষ করে লিখন পদ্ধতি, হাম্বুরাবির 'আইন সংহিতা', শিল্পকলা, সাহিত্য, ওজন ও পরিমাপ ব্যবস্থার প্রচলন, ধর্ম, চন্দ্র পঞ্জিকার উদ্ভাবন করে তারা বিশ্বকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। তাদের এসব অবদানের আংশিক প্রতিফলন উদ্দীপকে দেখা যায়।
উদ্দীপকে জনাব রহমান মিয়ার ইশতেহার ঘোষাণায় আইন সংহিতা, কৃষিকাজের উন্নয়ন এবং ওজন ও পরিমাপের যে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তা সুমেরীয় সভ্যতার অবদানের আংশিক প্রতিফলন। কেননা সুমেরীয় সভ্যতার অবদান ব্যাপক ও বিস্তৃত। তারা ভিন্নধর্মী লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। মিসরীয়দের মতো চিত্রলিপির ব্যবহার করলেও পরবর্তীতে নিজেদের আরো গতিশীল করতে কিউনিফর্ম নামক অক্ষরভিত্তিক চিত্রলিপির উদ্ভাবন করেন। আইনের ক্ষেত্রেও তাদের অবদান অনস্বীকার্য। তারা ৩০ দিনে মাস, ৩৬০ দিনে বছর গণনা করতো। এ সভ্যতায় দিনকে ঘণ্টা হিসেবে ভাগ করে ব্যবহার করা হতো। এভাবেই জ্ঞান-বিজ্ঞানসহ সকল ক্ষেত্রে তারা অসমান্য অবদান রেখেছে।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সুমেরীয় সভ্যতার অবদানের আংশিক প্রতিফলন উদ্দীপকে পরিলক্ষিত হয়।

