- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
পাগলাদহ গ্রামের আদিবাসীদের মধ্যে সবসময় গোলমাল লেগেই থাকে। গ্রামে অনেক জোতদার লোকের বাস। জোতদারদের নিজস্ব অনুগত বাহিনী আছে। বছরের বিভিন্ন সময় ধান কাঠা, মাছ ধরা বিভিন্ন কারণে দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগেই থাকে। তার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা বাজিতপুরের নারীদের। নারী যেহেতু পুরুষের মতো ক্ষেতে ফসল ফলানো, পুকুরে মাছ ধরা প্রভৃতি কাজে অক্ষম সে কারণে তাদেরকে বোঝা মনে করা হয়। সামর্থ্যবান পুরুষেরা তাদেরকে নানাভাবে নিগৃহীত করে থাকে। তবে যেসব নারী তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়, তাদেরকে জোতদারেরা সমীহ করে।
উদ্দীপকের গ্রামের অবস্থার সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের কোন অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের পাগলাদহ গ্রামের অবস্থার সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের সামাজিক অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে। প্রাক-ইসলামি যুগ বলতে হযরত মুহাম্মদ (স)-এর আগমনের পূর্ববর্তী একশ বছরকে বোঝানো হয়। এ সময়কে 'আইয়ামে জাহেলিয়া' বা অন্ধকার যুগও বলা হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে সব সময় গোলমাল। গেলেই থাকে। এই গ্রামে অনেক জোতদার লোকের বাস। বছরের বিভিন্ন সময়ে ধান কাটা, মাছ ধরা বিভিন্ন কারণে দ্বন্দ্ব সংঘাত লেগেই থাকতো। তেমনিভাবে প্রাক-ইসলামি আরবদের মধ্যেও বংশগৌরব, বীরত্ব, শৌর্যবীর্য নিয়ে সর্বদাই দ্বন্দ্ব ও কলহ লেগেই থাকত। এ সময় কৌলীন্য প্রথা থেকেই ষষ্ঠ শতাব্দীতে হিমারীয় ও মুদারীয়দের মধ্যে আন্তর্জাতিক যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। প্রাক-ইসলামি আরব সমাজে নারীর অবস্থা ছিল সীমাহীন অবমাননাকর ও হৃদয়বিদারক। নারীকে আপদ ও অশুভ সত্তা বলে মনে করা হতো। সমাজে এরা ভোগের সামগ্রী ও অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত হতো। তাদের আর্থ-সামাজিক কোনো মর্যাদা ছিল না। বাজারের পণ্যের মতো হস্তান্তরযোগ্য ছিল নারী। সামাজিক মর্যাদা তো দূরের কথা তাদের ন্যূনতম মানবিক অধিকার পর্যন্ত ছিল না। নারীরা যুদ্ধ-বিগ্রহে অক্ষম ছিল বিধায় তাদেরকে সর্বদা লাঞ্ছিত, অবহেলিত ও হেয় প্রতিপন্ন করা হতো। এক কথায় প্রাক-ইসলামি যুগে নারীর কোনো মূল্য ছিল না-উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকের পাগলাদহ গ্রামের অবস্থার সাথে প্রাক-ইসলামি আবরের সামাজিক অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে।

