- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
কদমতলিতে গ্রাম্য মোড়লদের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। গ্রামের লোকজন তাদের মধ্য হতে সর্বাপেক্ষা সৎ, যোগ্য এবং বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে মোড়ল নির্বাচিত করেন। নির্বাচিত মোড়ল গ্রামের গণ্য-মান্য ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে গ্রামের সার্বিক শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করেন।
'আরবের শেক্সপিয়ার' কাকে বলা হয়?
আরবের শেক্সপিয়ার বলা হয় ইমরুল কায়েসকে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
আল মালার বিভিন্ন শাখার কার্যাবলির বিবরণ দাও।
প্রাক-ইসলামি আরব শাসনের ক্ষেত্রে আল মালার বিভিন্ন শাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সম্পাদন করত। ইসলামপূর্ব আরবে 'আল মালা' নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন বা মন্ত্রণাসভা ছিল। আল মালা নামে আখ্যায়িত এ পরিষদ মক্কার বিবদমান গোত্রগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করত। এর উদ্দেশ্য ছিল শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা, গোত্রীয় ভারসাম্য রক্ষা করা এবং মৈত্রী ও সম্ভাব কায়েম করা। উদ্দীপকেও মালার কার্যাবলির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, নির্বাচিত মোড়লদের মাধ্যমে একটি গ্রামের শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। তিনি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে গ্রামের সার্বিক শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করতেন। আর এ পরামর্শ সভাটিই ছিল প্রাক-ইসলামি আরবের মালা। এ পরিষদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ছিল না। এটি কেবল পরামর্শ দিতে পারত। এর বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল রিফাদাহ, সিকায়াহ, নাসি ও লিওয়া। এর মধ্যে রিফাদাহ তীর্থ যাত্রীদের জন্য রসদ সরবরাহের প্রধান দায়িত্ব পালন করত। সিকায়াহ তীর্থ যাত্রীদের পানীয় সরবরাহ করত। নাসির দায়িত্ব ছিল সৌর ও চন্দ্র বছরের মধ্যে পঞ্জিকার সামঞ্জস্য বিধান করা। আর লিওয়া যুদ্ধের সময় পতাকা বহনের দায়িত্ব পালন করত। এভাবে মালার বিভিন্ন শাখাসমূহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি পরিচালনা করত। যে কক্ষে এ পরিষদের সভা বসত তাকে 'দারুন নাদওয়া' বলা হতো।
'প্রাচীন আরবের শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি ছিল গোত্র-প্রীতি' উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
প্রাচীন আরবের শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি ছিল গোত্রপ্রীতি- উক্তিটি যথার্থ।
প্রাক-ইসলামি আরবের অধিকাংশ বাসিন্দাই ছিল বেদুইন বা যাযাবর। বিশেষ কিছু জীবনাচরণ বা বৈশিষ্ট্যের জন্য বেদুইনদের সভ্য মানুষের সাথে তুলনা করা যায়। এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম ছিল গোত্রপ্রীতি। উদ্দীপকেও এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকের প্রাক-ইসলামি আরবের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে। যেখানে গোত্রীয় শাসনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। আর আরবদের মধ্যে গোত্রপ্রীতি ছিল অত্যন্ত প্রকট। আরবের বেদুইনদের সমাজের ভিত্তিই ছিল গোষ্ঠীবদ্ধতা। স্বজাতীয় কয়েকটি গোষ্ঠী একত্রিত হয়ে 'কাবিলা' গঠন করত। কাবিলার প্রধানের প্রতি তাদের আনুগত্য ছিল সীমাহীন। গোত্রের প্রতি তাদের মমত্ববোধ এত প্রখর ছিল যে, এর জন্য প্রয়োজনে তারা জান মাল দিতেও প্রস্তুত ছিল। তাছাড়া গোত্রের স্বার্থে তারা প্রয়োজনে যুদ্ধ করতে দ্বিধা করত না। এ গোত্রীয় সংহতি তাদেরকে এক সূত্রে আবদ্ধ রেখেছে যুগ যুগ ধরে। আবার তারা রক্তের বদলে। রক্তের নীতিতে বিশ্বাসী হলেও যথেষ্ট অতিথিপরায়ণ ছিল।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রাক-ইসলামি আরবের গোত্রীয় শাসনব্যবস্থায় গোত্রপ্রীতিই ছিল প্রধান।

