- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সিফাত একটি ছোট শহরে বাস করে। তার শহরের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটগুলো সুপরিকল্পিত। যদিও নদীর প্লাবনে ফসলের ক্ষতি হয় এবং শহর প্লাবিত হয়। কিন্তু শহরবাসী বসে না থেকে সরকারের সাহায্য নিয়ে নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করে। এ পানির দ্বারা সেচ দিয়ে প্রচুর ফসল ফলায় এবং নদীপথে বাণিজ্য করে আর্থিক উন্নতি লাভ করে। তাদের বসতবাড়িগুলো তারা খুব যত্ন সহকারে তৈরি করে। তবে মন্দির ও মসজিদ তৈরিতে তারা তেমন যত্নশীল ছিল না তাদের শহর ধর্মীয় কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত।
সিফাতের শহরে কোন সভ্যতার মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
সিফাতের শহরের সাথে মিসরীয় সভ্যতার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। প্রাচীন সভ্যতার ভিত্তি ভূমি হিসেবে বিবেচিত মিসরের অবস্থান আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব দিকে। আজ থেকে ৭০০০ বছর পূর্বে পুরোপলীয় যুগ হতে নবোপলীয় যুগ পেরিয়ে খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে মিসরে সভ্যতার যাত্রা শুরু হয়। সভ্যতার অগ্রযাত্রায় মিসরীয়দের অবদান অপরিসীম। উদ্দীপকে দেখা যায়, সিফাতের বসবাসরত শহরটির ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটগুলো সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি। নদীর প্লাবনে তাদের ফসলের ক্ষতি হলেও তারা বসে না থেকে সরকারের সাহায্য নিয়ে নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে পানি ধরে রাখার চেষ্টা করে এবং পানি দ্বারা সেচ দিয়ে প্রচুর ফসল ফলায়, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করে তোলে। মিসরীয়দের ক্ষেত্রে একই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। উন্নত নগর পরিকল্পনার জন্য তারা ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে। তাদের নির্মিত রাস্তাঘাট এবং সুউচ্চ প্রাসাদগুলো তাদের আভিজাত্য এবং উন্নত বুচিবোধের কথাই মনে করিয়ে দেয়। তাছাড়া বর্ষার সময় নীল নদের দু'কূল ছাপিয়ে পানি উঠত, যা নগরীবাসীকে দূরবস্থায় ফেলে দিত। এ সমস্যা সমাধানে মিসরীয়রা নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রাখার চেষ্টা করে, যা তাদের কৃষিক্ষেত্রে সমৃদ্ধি এনে দেয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সিফাতের শহরের সাথে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতারই সাদৃশ্য রয়েছে।

