- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- প্রাক ইসলামি আরব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সিফাত একটি ছোট শহরে বাস করে। তার শহরের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটগুলো সুপরিকল্পিত। যদিও নদীর প্লাবনে ফসলের ক্ষতি হয় এবং শহর প্লাবিত হয়। কিন্তু শহরবাসী বসে না থেকে সরকারের সাহায্য নিয়ে নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করে। এ পানির দ্বারা সেচ দিয়ে প্রচুর ফসল ফলায় এবং নদীপথে বাণিজ্য করে আর্থিক উন্নতি লাভ করে। তাদের বসতবাড়িগুলো তারা খুব যত্ন সহকারে তৈরি করে। তবে মন্দির ও মসজিদ তৈরিতে তারা তেমন যত্নশীল ছিল না তাদের শহর ধর্মীয় কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত।
উদ্দীপকের শহরের সাথে মিসরীয় সভ্যতার ধর্ম ও স্থাপত্য শিল্পের তুলনামূলক আলোচনা কর।
উদ্দীপকের শহরের সাথে মিসরীয় ধর্ম ও স্থাপত্য শিল্পের তুলনামূলক আলোচনায় বৈসাদৃশ্যই বেশি পরিলক্ষিত হয়। মিসরীয়রা প্রাকৃতিক শক্তিকে দেবতাজ্ঞানে পূজা করত। সূর্য ছিল তাদের প্রধান দেবতা। সূর্যদেবতার নাম 'রে' বা 'রা' থেকে 'আমন রে'-তে রূপান্তরিত হয়। তারা বিশ্বাস করত 'আমন বে' এবং 'ওসিরিস' মিলিতভাবে পৃথিবী পরিচালনা করেন। মিসরীয় সভ্যতার অবসানের যুগে ধর্মে নানারকম কুসংস্কার যুক্ত হয়। পুরোহিতরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের স্বার্থ আদায় করত। পক্ষান্তরে, উদ্দীপকে বর্ণিত শহরের লোকজনের মাঝে ধর্মীয় কুসংস্কার এবং সাম্প্রদায়িকতা নেই। তারা নিজেদের উন্নতি নিয়েই সবসময় চিন্তাভাবনা করে। তাদের কাছে জাতীয় উন্নতি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। মিসরীয়দের স্থাপত্যশিল্পের সাথেও উদ্দীপকের শহরের স্থাপত্যশিল্পের পার্থক্য লক্ষ করা যায়। মিসরীয়রা মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য পিরামিড তৈরি করে, যা একসময় সপ্তাশ্চর্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাছাড়া তাদের স্থাপত্যশিল্পে প্রধান জায়গা করে নেয় ধর্মমন্দিরগুলো। মিসরের জাতীয় শক্তি ও পারলৌকিক বিশ্বাসে গড়ে ওঠা এ মন্দিরগুলো শিল্পকলার উৎকর্ষ প্রমাণ করে। কিন্তু উদ্দীপকের শহরের লোকজন মন্দির ও মসজিদ নির্মাণে যত্নশীল নয়। তারা তাদের বাড়িঘরগুলো পরিকল্পিতভাবে এবং যত্নসহকারে নির্মাণ করতে আগ্রহী ছিল। উপর্যুক্ত আলোচনায় দেখা যায়, ধর্ম ও স্থাপত্য শিল্পের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের শহর ও মিসরীয়দের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

