- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
১৯৭২ সালে ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়। পরবর্তীতে ইহাতে ১৫ বার সংশোধনী আনা হলেও ইহা মানুষের সব সমস্যা সমাধান করতে পারেনি। কিন্তু দেড় হাজার বছর পূর্বে আরব দেশে যে সংবিধান প্রণীত হয় তা রক্তের পরিবর্তে ধর্মের ভিত্তিতে একটি সাধারণ উম্মাহ গঠন করতে ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল।
সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরবদের সংবিধানের ভূমিকা লেখো।
মহানবি (স)-এর গৃহীত সংবিধান আরবে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সদ্ভাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান হচ্ছে মদিনা সনদ। একটি আদর্শ সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে সংযোজিত নীতিমালা একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক আদর্শ সমাজ গঠনে সহায়ক হবে। আরবদের সংহতির কথা চিন্তা করে সেখানে বসবাসকারী পৌত্তলিক, ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং মুসলমানদের জন্য মহানবি (স) শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় দিক দিক দিয়ে মদিনা সনদ ছিল মহানবি (স)-এর অনন্য অবদান। মদিনা সনদ মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে হিংসা, বিদ্বেষ, ও দ্বন্দ্ব-কলহের অবসান ঘটায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধনে বেঁধে একটি তুলনাহীন রাজনৈতিক ঐক্যের দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে। প্রত্যেক সম্প্রদায়কে স্ব স্ব মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে গৃহযুদ্ধের ডামাডোল থেকে মদিনাকে রক্ষা করে এ সনদের বিধান। সুদহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় এ সনদের বিধান বিশ্বের সকল শাসকদের জন্য অতুলনীয় দৃষ্টান্ত। মদিনা সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ (স) মদিনাকে একটি আদর্শ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। এ সনদে প্রণীত নীতিমালা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূরীকরণ, বর্ণবৈষম্য থেকে বিশ্বকে মুক্ত করণের পাশাপাশি গৃহযুদ্ধের মতো ঘটনা নিরসনে প্রত্যেক শান্তিকামী মানুষের জন্য আদর্শ উদাহরণ। উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরবদের। সংবিধানের ভূমিকা ছিল অসামান্য।

