- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ইসলাম ও ব্যক্তিজীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রাবেয়া বেগম অত্যন্ত দীনদার ও আল্লাহওয়ালা মহিলা। তিনি সব ধরনের অবৈধ বস্তু বর্জন করে চলেন। শুধু তাই নয়, তিনি এমন বৈধ বস্তুও বর্জন করেন যেগুলো সন্দেহযুক্ত। পক্ষান্তরে তার ছোট বোন রাবেতা ব্যক্তিগত জীবনে খুবই উদাসীন। বৈধ, অবৈধ সবকিছুই তার কাছে সমান। একদিন রাবেয়া তার ছোটবোনকে বললো, "সতর্ক জীবনযাপন না করলে তোমার শেষ পরিণতি ভাল হবে না।" রাবেতা বড় বোনের কথায় কোনো গুরুত্ব দেয়নি।
সালাত শব্দের অর্থ কী?
সালাত শব্দের অর্থ দোয়া বা প্রার্থনা।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'সব কাজের সূচনায় বিসমিল্লাহ বলতে হয়'- ব্যাখ্যা করো।
প্রতিটি ভালো কাজের শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া ইসলামি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
মুসলমানদের প্রতিটি কাজই 'বিসমিল্লাহ' বলে শুরু করতে হয়। মহান আল্লাহর নাম নিয়ে কাজ শুরু করলে আল্লাহ তায়ালা তাতে রহমত করেন। আর কাজের শুরুতে আল্লাহর নাম না নিলে সেটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স) বলেন, 'প্রতিটি ভালো কাজের শুরুতে যদি আল্লাহর নাম নেওয়া না হয়, তাহলে সেটি হয় অসম্পূর্ণ ও নিম্নমানের' (সুনান আবু দাউদ, সুনান ইবনে মাজাহ)।
উদ্দীপকে রাবেয়ার কর্মকাণ্ড ইমাম গাজজালি (র) এর দৃষ্টিতে কোন স্তরের তাকওয়া? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে রাবেয়ার কর্মকাণ্ড ইমাম গাজজালি (র) এর দৃষ্টিতে দ্বিতীয় স্তরের তাকওয়া।
আল্লাহ তায়ালার ভয়ে সব ধরনের অন্যায়, অনাচার ও পাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন করাকে তাকওয়া বলে। প্রখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ইমাম গাজজালি (র)-এর মতে তাকওয়ার চারটি স্তর রয়েছে। একজন মুত্তাকি পর্যায়ক্রমে তাকওয়ার প্রতিটি স্তর অতিক্রম করে চূড়ান্ত পর্যায়ে মহান আল্লাহ তায়ালার পূর্ণ সন্তুষ্টি অর্জন করেন। তাকওয়ার দ্বিতীয় স্তর হলো হারাম বস্তু বর্জন করার পর সন্দেহযুক্ত হালাল বস্তুও বর্জন করা, যা উদ্দীপকের রাবেয়ার কর্মকাণ্ডে লক্ষ করা যায়। এ স্তরের তাকওয়া অনুশীলনকারী ব্যক্তিকে বলা হয় 'সুলাহা'।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, রাবেয়া বেগম অত্যন্ত দীনদার ও আল্লাহওয়ালা একজন মহিলা। তিনি সব ধরনের অবৈধ বস্তু বর্জন করার পাশাপাশি সন্দেহযুক্ত বৈধ বস্তুও বর্জন করেন। কেননা সন্দেহযুক্ত হালাল বস্তু বর্জন না করলে সন্দেহাতীতভাবে হারাম থেকে মুক্ত থাকা যায় না। রাসুলুল্লাহ (স) বলেন, 'যা সন্দেহযুক্ত তা বর্জন করো আর যা সন্দেহযুক্ত নয় তা গ্রহণ করো' (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমদ)। আর রহিমার এ কাজের মাধ্যমে দ্বিতীয় স্তরের তাকওয়ার প্রকাশ ঘটেছে।
উদ্দীপকে রাবেয়ার কর্মকাণ্ডের পরিণতি কী হতে পারে? কুরআন-হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকের রাবেয়ার তাকওয়াবিহীন জীবনযাপনের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
ইসলামি জীবনদর্শনে তাকওয়া সব সদগুণের মূল। উন্নত চরিত্র গঠন ও তা সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তাকওয়াহীন জীবনযাপন করলে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করা যায় না। যে ব্যক্তি তাকওয়াহীন জীবনযাপন করে তার অবৈধ ও পাপকাজের পথে ধাবিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। রাবেয়ার মধ্যে এটাই লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের রাবেতা ব্যক্তিগত জীবনে খুবই উদাসীন। সে বৈধ ও অবৈধের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। তার কাছে দুটোই সমান। তার বড় বোন রাবেয়া তাকে সতর্ক জীবনযাপনের উপদেশ দিলেও সে এতে কোনো গুরুত্বই দেয়নি। রাবেয়ার এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায়, তার মধ্যে তাকওয়া অনুপস্থিত। আর ইসলামে তাকওয়াহীন জীবনযাপনের পরিণতি ভয়াবহ। প্রকৃতপক্ষে যার মধ্যে তাকওয়া নেই তার ইমান নেই। তাকওয়াহীন জীবনযাপনে নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ও ন্যায়নীতি থাকে না। কেননা অন্তরে আল্লাহর ভয় না থাকলে ব্যক্তি সহজেই যেকোনো ধরনের অন্যায়, দুর্নীতি ও পাপ কাজে জড়িত হয়ে পড়েন। এ ধরনের জীবনযাপনে সুখ-শান্তি ও শৃঙ্খলা থাকে না।
পরিশেষে বলা যায়, তাকওয়াহীন জীবনযাপনের চূড়ান্ত পরিণতি হলো জাহান্নাম। কাজেই সব মুসলিমের উচিত আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন এবং পরিপূর্ণ মুসলমান হিসেবে 'মৃত্যুবরণ করা।

