• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ইসলামের ইতিহাসের স্যার ক্লাসে এক যুদ্ধের কাহিনি বর্ণনা করছিলেন, যে যুদ্ধে মুসলামানদের যুদ্ধ কৌশল ঠিকই ছিল; কিন্তু কিছু সংখ্যক সৈন্য কমান্ডারের আদেশ অমান্য করে প্রকাশ্যে চলে আসায় যুদ্ধে চরম মূল্য দিতে হয় মুসলমানদের। অবশ্য পরে আর কখনও এমন ভুল করেনি।

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে তোমার পঠিত গ্রন্থে উল্লিখিত যুদ্ধ থেকে কী শিক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে আলোচনা কর।

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ইসলামের ইতিহাসের উহুদ যুদ্ধ থেকে যে শিক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে তা হলো- নেতার আদেশ অমান্য করা অনুচিত।

যুদ্ধক্ষেত্রে একজন সুযোগ্য নেতা তার নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে সৈন্যদলকে সঠিকভাবে পরিচালনা করেন। তাই তার নির্দেশ অমান্য করলে বিপর্যয় অনিবার্য। এ কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে নেতার আদেশ মেনে চলাটা সৈন্যদের জন্য অপরিহার্য।

উহুদ যুদ্ধে মুসলমানরা চরম শিক্ষা লাভ করে। এ যুদ্ধে নেতার নির্দেশ অমান্য করার কারণে উহ্রদের বিপর্যয় মুসলমানদেরকে পরবর্তীতে সুশৃঙ্খলাবদ্ধ সামরিক জাতিতে পরিণত করে। এ যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে তারা বুঝতে পারে নেতার আদেশ অমান্য করলে পরাজয় অনিবার্য। এ শিক্ষা পরবর্তী সময়ের সকল যুদ্ধে তাদের সফল হতে সাহায্য করে। উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধেও উহুদ যুদ্ধের মতো নেতার আদেশ অমান্য করার ভয়াবহ পরিণতির কথা বলা হয়েছে। তাই আমাদের সকলের উচিত নেতার আদেশ মেনে চলা।

উপর্যুক্ত আলোচনায় এটা প্রমাণ হয় যে, নেতার আদেশ অমান্য করার কারণে উহুদ যুদ্ধে মুসলমানদের পরাজয়বরণ করতে হয়েছে। তাই সর্বাবস্থায় নেতাকে মান্য করাই উদ্দীপক এবং উহুদ যুদ্ধের শিক্ষা।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

আবু জেহেল কোন যুদ্ধে নিহত হয়?

আবু জেহেল বদর যুদ্ধে নিহত হয়।

#

মুসলমানদের আবিসিনিয়ায় হিজরতের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

মুসলমানদের আবিসিনিয়া হিজরতের গুরুত্ব অনেক।

আবিসিনিয়ায় প্রথম ও দ্বিতীয় বার হিজরত করে মুসলমানগণ এটাই প্রমাণ করেন যে, সত্য ধর্ম ইসলামের জন্য তাঁরা যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত আছেন। তাঁরা আত্মত্যাগের একটা নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ধর্মের জন্য দেশত্যাগ কেন, জীবন বিসর্জন দিতেও তাঁরা যে সদা প্রস্তুত, আবিসিনিয়ায় হিজরত করে তাঁরা 'তাও প্রমাণ করেন। আবিসিনিয়া তাঁদের দুর্দিনের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবেও পরিগণিত হয়। তাছাড়া এটা মদিনায় বৃহত্তর হিজরতের পূর্বাভাস সূচনা করেছিল। মদিনাবাসীগণ মুসলমানদেরকে আশ্রয় দিতে রাজি না থাকলে এবং আল্লাহর প্রত্যাদেশ না. পেলে হযরত মুহাম্মদ (স) হয়ত আবিসিনিয়াতেই হিজরত করতেন। কাজেই মুসলমানদের আবিসিনিয়ায় হিজরতের গুরুত্ব অপরিসীম।

#

উদ্দীপকে কোন যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ইসলামের ইতিহাসের উদ্বুদ যুদ্ধে নেতার আদেশ অমান্য করার ঘটনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

যুদ্ধক্ষেত্রে নেতার আদেশ অমান্য করলে তার পরিণতি কখনোই ভালো হয় না। উহুদ যুদ্ধে মহানবি (স)-এর আদেশ অমান্য করার কারণেই-মুসলিমরা পরাজিত হয়েছিল। উদ্দীপকেও অনুরূপ একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে। উহুদ প্রান্তরে মুসলিম শিবিরের পশ্চাতে বাম পাশে একটি গিরিপথ ছিল। রাসুলুল্লাহ (স)-এর নির্দেশ ছিল 'জয় অথবা পরাজয় কোনো অবস্থাতেই মুসলিম তীরন্দাজ বাহিনী যেন গিরিপথ অতিক্রম না করে'। প্রথম দিকে মুসলমানরা পর পর সাফল্য লাভ করে। এতে শত্রুবাহিনী দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে তীরন্দাজ বাহিনী মহানবি (স)-এর আদেশ ভুলে গিয়ে গিরিপথের রক্ষণাবেক্ষণের পরিবর্তে গনিমতের মাল সংগ্রহে নিয়োজিত হয়। এই সুযোগে শত্রুপক্ষ মুসলমানদের আক্রমণ করে এবং মুসলমানরা পরাজয়বরণ করে। উদ্দীপকে বর্ণিত ইসলামের ইতিহাসের ক্লাসে স্যার যে যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন সেটিতে কিছু মুসলিম সৈন্য নেতার আদেশ অমান্য করে সামনে চলে আসে। ফলে যুদ্ধে তাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং কয়েকজন যোদ্ধা মারা যায়। সুতরাং বলা যায়, এ যুদ্ধের সাথে উহুদ যুদ্ধের মিল রয়েছে।