• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মি. সালাম টেলিভিশনের প্রতিবেদনে দেখতে পেলেন কিছু নর-নারী মদ্যপান, জুয়াখেলা, ব্যভিচার এবং কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দিচ্ছে। তারা অর্থনৈতিক সংকট দূরীকরণে কুসিদপ্রথা, চুরি, ডাকাতি এবং পরসম্পদ আত্মসাৎ-এ লিপ্ত। তাদের মধ্যে অনাচার, মিথ্যাচার এবং সংকীর্ণতা লক্ষণীয়।

​'উটকে মরুভূমির জাহাজ' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

মরুপথের প্রধান সহায়ক বাহন হওয়ায় উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়।

উট আরবদের সবচেয়ে প্রিয় গৃহপালিত জন্তু। আরবদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই উটের ভূমিকা অপরিসীম। আরবে নৌ চলাচলের উপযোগী কোনো নদ-নদী নেই। এ কারণে আরববাসীরা খাদ্য ও পানীয় সংগ্রহ, যোগাযোগ এবং ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো বাহন ব্যবহার করতে পারে না। এক্ষেত্রে তাদের প্রধান বাহন হিসেবে উট কাজ করে। উট মরুভূমিতে চলাচলের জন্য সবচেয়ে উপযোগী প্রাণী। তাই উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

কাদের 'ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা' বলা হয়?

মিসরীয়দের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা হয়।

#

মি. সালামের দেখা প্রতিবেদনের সাথে তোমার পঠিত কোন যুগের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

মি. সালামের দেখা প্রতিবেদনের সাথে আমার পঠিত আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের কথা বলা হয়েছে।

'আইয়াম' শব্দটি আরবি শব্দ। যার অর্থ যুগ। আর 'জাহেলিয়া' অর্থ অজ্ঞতা। সুতরাং আইয়ামে জাহেলিয়া অর্থ অজ্ঞতার যুগ। ধারণা করা হয় যে, যুগে আরবে কোনো প্রকার কৃষ্টি, সূক্ষ্ণ ধর্মীয় অনুভূতি বা চেতনা ছিলনা সে যুগকে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়। এ যুগের সামাজিক ও নৈতিক জীবন ছিল কলুষিত ও হতাশাব্যঞ্জক। আরবগণ সূরা, নারী ও যুদ্ধে লিপ্ত থাকত। এ যুগে পাপাচার, কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার সমাজকে কলুষিত করেছিল। মদ্যপান, জুয়াখেলা, সুদ ও নারীসঙ্গ ছিল তাদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এ সমাজে নারীর কোনো সামাজিক অবস্থান ছিল না। নারীদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পুরুষরা একাধিক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত থাকত। নারীরা সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হতো। কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে লজ্জার কারণে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. সালাম টেলিভিশনের প্রতিবেদনে দেখতে পেল কিছু নর-নারী মদ্যপান, জুয়াখেলা, ব্যভিচার এবং কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দিচ্ছে। যা আইয়ামে জাহেলিয়াতকে নির্দেশ করে।

#

উদ্দীপকে বর্ণিত জাহেলিয়া যুগের সামাজিক অবস্থা বর্ণনা করো।

উদ্দীপকে বর্ণিত জাহেলিয়া যুগের সামাজিক অবস্থা বর্ণনা করা হলো-

জাহেলিয়া যুগে আরবের সামাজিক অবস্থা ছিল চরম হতাশাপূর্ণ। এ যুগে মানুষ মূর্খতা, বর্বরতা ও প্রকৃতি পূজায় মগ্ন ছিল। সমাজে কৌলিন্য প্রথা বিরাজমান ছিল। ফলে দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগে থাকত। এ যুগে অন্যায়-অনাচার, পাপাচার, সূরা পান, জুয়া খেলা, সুদপ্রথা মানুষের জীবনকে কলুষিত করেছিল। মানবতা ছিল ভুলণ্ঠিত, সমাজে নারীর কোনো মর্যাদা ছিল না, লজ্জার কারণে কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিতে তারা কুণ্ঠাবোধ করতো না। নারী ছিল ভোগ্যপণ্য মাত্র। এ সমাজে দাস-দাসীদের পণ্যের মতো হাটে-বাজারে বিক্রি করা হতো। তাদের ওপর নিষ্ঠুর আচরণ করা হতো। এ সমাজে নৈতিকতার চরম অবক্ষয় ঘটেছিল। তারা অনৈতিক কাজগুলো গর্বের সাথে সম্পন্ন করতো। যুদ্ধে যাওয়ার আগে তারা বীর পুরুষদের পূজা করতো। এ সমাজে সুদের ব্যাপক প্রচলন ছিল। সময়মতো ঋণগ্রহীতা অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে তার স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের জোরপূর্বক দখল করে দাসে পরিণত করা হতো। এতসব অনৈতিক গুণাবলির মাঝেও আরবদের চরিত্রে অতিথিপরায়ণতা, স্বাধীনতা, স্বদেশপ্রীতি, কাব্যচর্চা প্রভৃতি সদগুণগুলো বিদ্যমান ছিল।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. সালামের দেখা প্রতিবেদনটিতে কিছু নর-নারী মদ্যপান, জুয়াখেলা, ব্যভিচার এবং কন্যাসন্তানদের জীবন্ত কবর দিচ্ছে। তারা অর্থনৈতিক সংকট দূরীকরণে কুসিদপ্রথা, চুরি, ডাকাতি এবং পরসম্পদ আত্মসাতে লিপ্ত। তাদের মধ্যে অনাচার, মিথ্যাচার এবং সংকীর্ণতা লক্ষণীয়। যা জাহেলিয়া যুগের সামাজিক অবস্থাকে নির্দেশ করে।

পরিশেষে বলা যায়, জাহেলিয়া যুগের সামাজিক অবস্থা ছিল পাপ-পঙ্কিলতা ও অনৈতিকতায় ভরপুর। এ সমাজে নৈতিক গুণাবলি নির্বাসিত ছিল। মানুষ অনৈতিক উপায়ে তাদের কর্মকাণ্ড হাসিলে ব্যস্ত ছিল।