- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মি. সালাম টেলিভিশনের প্রতিবেদনে দেখতে পেলেন কিছু নর-নারী মদ্যপান, জুয়াখেলা, ব্যভিচার এবং কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দিচ্ছে। তারা অর্থনৈতিক সংকট দূরীকরণে কুসিদপ্রথা, চুরি, ডাকাতি এবং পরসম্পদ আত্মসাৎ-এ লিপ্ত। তাদের মধ্যে অনাচার, মিথ্যাচার এবং সংকীর্ণতা লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত জাহেলিয়া যুগের সামাজিক অবস্থা বর্ণনা করো।
উদ্দীপকে বর্ণিত জাহেলিয়া যুগের সামাজিক অবস্থা বর্ণনা করা হলো-
জাহেলিয়া যুগে আরবের সামাজিক অবস্থা ছিল চরম হতাশাপূর্ণ। এ যুগে মানুষ মূর্খতা, বর্বরতা ও প্রকৃতি পূজায় মগ্ন ছিল। সমাজে কৌলিন্য প্রথা বিরাজমান ছিল। ফলে দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগে থাকত। এ যুগে অন্যায়-অনাচার, পাপাচার, সূরা পান, জুয়া খেলা, সুদপ্রথা মানুষের জীবনকে কলুষিত করেছিল। মানবতা ছিল ভুলণ্ঠিত, সমাজে নারীর কোনো মর্যাদা ছিল না, লজ্জার কারণে কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিতে তারা কুণ্ঠাবোধ করতো না। নারী ছিল ভোগ্যপণ্য মাত্র। এ সমাজে দাস-দাসীদের পণ্যের মতো হাটে-বাজারে বিক্রি করা হতো। তাদের ওপর নিষ্ঠুর আচরণ করা হতো। এ সমাজে নৈতিকতার চরম অবক্ষয় ঘটেছিল। তারা অনৈতিক কাজগুলো গর্বের সাথে সম্পন্ন করতো। যুদ্ধে যাওয়ার আগে তারা বীর পুরুষদের পূজা করতো। এ সমাজে সুদের ব্যাপক প্রচলন ছিল। সময়মতো ঋণগ্রহীতা অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে তার স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের জোরপূর্বক দখল করে দাসে পরিণত করা হতো। এতসব অনৈতিক গুণাবলির মাঝেও আরবদের চরিত্রে অতিথিপরায়ণতা, স্বাধীনতা, স্বদেশপ্রীতি, কাব্যচর্চা প্রভৃতি সদগুণগুলো বিদ্যমান ছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. সালামের দেখা প্রতিবেদনটিতে কিছু নর-নারী মদ্যপান, জুয়াখেলা, ব্যভিচার এবং কন্যাসন্তানদের জীবন্ত কবর দিচ্ছে। তারা অর্থনৈতিক সংকট দূরীকরণে কুসিদপ্রথা, চুরি, ডাকাতি এবং পরসম্পদ আত্মসাতে লিপ্ত। তাদের মধ্যে অনাচার, মিথ্যাচার এবং সংকীর্ণতা লক্ষণীয়। যা জাহেলিয়া যুগের সামাজিক অবস্থাকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, জাহেলিয়া যুগের সামাজিক অবস্থা ছিল পাপ-পঙ্কিলতা ও অনৈতিকতায় ভরপুর। এ সমাজে নৈতিক গুণাবলি নির্বাসিত ছিল। মানুষ অনৈতিক উপায়ে তাদের কর্মকাণ্ড হাসিলে ব্যস্ত ছিল।

