- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
তুরস্কের উসমানীয় সুলতান আব্দুল মজিদ রাজ প্রাসাদ গুলহান হতে 'হাতী হুমায়ুন' নামে রাজকীয় ফরমান জারি করেন। এ ঘোষণার মাধ্যমে জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা বিধান করা হয়। অমুসলিম প্রজাদেরকেও এ ঘোষণায় বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। তুরস্কের ইতিহাসে 'হাতী হুমায়ুন' ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক সনদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের সনদের সাথে মহানবি (স)-এর প্রণীত মদিনা সনদের সাদৃশ্য রয়েছে।
মানবতার মুক্তির দূত রাসুল করিম (স) আজ থেকে প্রায় পনেরোশত বছর পূর্বে মানব মুক্তির দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি তাঁর কথা কাজের মাধ্যমে বিশ্ব মানবতাকে সঠিক পথে চলার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। মদিনা সনদ প্রণয়নও তাঁর এ রকম একটি দৃষ্টান্তমূলক কর্মসূচি। এ সনদে তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বেশেষে সকল মানুষের সমান অধিকার রক্ষার মাধ্যমে একটি আদর্শ সমাজ গঠনের রূপরেখা প্রণয়ন করেছেন, যার প্রতিফলন রয়েছে উদ্দীপকে বর্ণিত মানবাধিকার সনদে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জাতিসংঘের সাধারণ সভা ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর বিশ্বের সকল মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার সনদ প্রণয়ন করেছে। যা মানবাধিকার সনদ নামে পরিচিত। হিজরতের পর মদিনায় গমন করেও রাসুল (স) এরকম একটি সনদ প্রণয়ন করেছিলেন। মদিনা ও আশপাশে বসবাসকারী মুসলিম, ইহুদি, খ্রিষ্টান ও পৌত্তলিকদের মধ্যে সদ্ভাব ও সম্প্রীতি স্থাপনের মাধ্যমে একটি আদর্শ রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তিনি এ সনদ প্রণয়ন করেন। বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান মদিনা সনদে তিনি ৪৭টি ধারা সংযোজন করেন, যার সবকটিই ছিল মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অধিকারের রক্ষাকবচ। এ সনদে তিনি সকল সম্প্রদায়কে সমান অধিকার প্রদানের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি সবাইকে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার প্রদান করেন। এ সনদে তিনি রক্তপাত, হত্যা, বলাৎকার অপরাধমূলক কাজকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দুর্বল, অসহায়কে সর্বোতভাবে সাহায্য করার আহ্বান জানান। মহানবি (স)-এর এসব অমোঘ এবং শাশ্বত- কর্মসূচির সুস্পষ্ট প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উদ্দীপকের মানবাধিকার ঘোষণায়।

