- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- হযরত মুহাম্মদ (স.) (৫৭০-৬৩২ খ্রি.)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
তুরস্কের উসমানীয় সুলতান আব্দুল মজিদ রাজ প্রাসাদ গুলহান হতে 'হাতী হুমায়ুন' নামে রাজকীয় ফরমান জারি করেন। এ ঘোষণার মাধ্যমে জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা বিধান করা হয়। অমুসলিম প্রজাদেরকেও এ ঘোষণায় বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। তুরস্কের ইতিহাসে 'হাতী হুমায়ুন' ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক সনদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'হাত্তী হুমায়ুনের ন্যায় তোমার পাঠ্যবইয়ে উল্লিখিত 'পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান'- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত হাতী হুমায়ুনের আমার পঠিত প্রথম লিখিত সংবিধান হচ্ছে মদিনা সনদ।
মদিনা সনদ পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান। ইতিপূর্বে শাসকের ঘোষিত আদেশই ছিল আইন। মহানবি (স) সর্বপ্রথম জনগণের মঙ্গলার্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় দেশের সব সম্প্রদায় ও জনগণের আন্তরিক সহযোগিতার প্রয়োজন অনুভব করে তিনি সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। মদিনার সনদে সাম্যের মহান নীতি, আইনের শাসন, ধর্মের স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতা এবং সামাজিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকায় এই সনদকে মহাসনদ (Magna Carta) বলা হয়। এই সনদের মাধ্যমে মুসলমান ও অমুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। বিপদের সময় একে অপরকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত হয় এই সনদে। মদিনা রাষ্ট্র তথা ইসলামি প্রজাতন্ত্র সংরক্ষণে সবার সমভাবে যুদ্ধব্যয় বহন করার ব্যবস্থা মুহাম্মদ (স)-এর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচায়ক। পূর্বের শেখতন্ত্রের পরিবর্তে এই সনদে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। মদিনার সনদের মাধ্যমে মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত মদিনা নগরীর পুনর্গঠন ও পরবর্তীতে নির্বিঘ্নে দূরদেশে ইসলামের প্রসারে রাসুল (স) আত্মনিয়োগ করার সুযোগ পান।

