- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ইসলাম ও ব্যক্তিজীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
প্রয়াত রফিক মিয়া একজন রিকশাচালক। একদিন এক যাত্রী তার ব্যাগটি রিকশায় রেখেই চলে যাচ্ছিল। রফিক মিয়া ঐ লোকটিকে ডেকে ব্যাগটি দিয়ে দিল। বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীকে ঘটনাটি জানালে তার স্ত্রী বলল, "কী দরকার ছিল? ব্যাগটি বাড়িতে নিয়ে আসতে পারতা।" রফিক মিয়া উত্তরে বলল, "হারাম খাওয়ার মধ্যে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি।"
'শোকর' কী?
আল্লাহ তায়ালার নিয়ামত ও রহমতের জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাকে শোকর বলে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'সত্য মুক্তি দেয় আর মিথ্যা ধ্বংস করে'- ব্যাখ্যা করো।
ইসলামের দৃষ্টিতে সত্যবাদিতা একটি প্রশংসনীয় চারিত্রিক গুণ আর মিথ্যা হলো জঘন্যতম ও ধ্বংসাত্মক পাপকাজ।
সত্যবাদিতা মানুষকে সব ধরনের অন্যায় ও অপকর্ম থেকে দূরে রাখে। সত্যবাদিতার মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনে সাফল্য ও পরকালে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। অন্যদিকে মিথ্যা মানুষের মধ্যে শত্রুতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না, ভালোবাসে না। মিথ্যাবাদী ব্যক্তি মুনাফিক আর মুনাফিকের স্থান হলো জাহান্নাম। মিথ্যা মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনকে ধ্বংস করে। তাই রাসুল (স) বলেছেন, 'সত্যবাদিতা মুক্তি দেয় আর মিথ্যা ধ্বংস করে' (বুখারি ও মুসলিম)।
রফিক মিয়ার স্ত্রীর মনোভাব তোমার পাঠ্যবই এর আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে রফিক মিয়ার স্ত্রীর মনোভাবে হারাম খাওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
অবৈধ, অননুমোদিত বা শরিয়ত পরিপন্থি যেকোনো উপায়ে উপার্জন করাকে হারাম উপার্জন বলে। অর্থাৎ যেসব বিষয় কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে অবৈধ প্রমাণিত হয় তাকে হারাম বলে। মানুষ নিজের মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বিষয় অর্জন করে।
অন্যের অর্থ-সম্পদ তার অনুমতি ছাড়া গ্রহণ করা ইসলামি শরিয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আর এদিকে রফিক মিয়ার স্ত্রীর আকর্ষণ রয়েছে।
উদ্দীপকের রফিক মিয়া একজন রিকশাচালক। একদিন এক যাত্রী তার ব্যাগটি রিকশায় রেখে চলে যাওয়ার সময় রফিক মিয়া ঐ লোকটিকে ডেকে ব্যাগটি ফেরত দেয়। তার স্ত্রী ঘটনাটি শোনার পর বলল, ব্যাগটি ফেরত না দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসলে পারতে।
রফিক মিয়ার স্ত্রীর এ ধরনের মনোভাব ইসলাম সমর্থন করে না। কেননা ব্যাগটি আত্মসাৎ করলে সেটি অবৈধ উপার্জন হতো। আর ইসলামে অবৈধ পথে উপার্জন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হারাম উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করলে ইবাদত কবুল হয় না। উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, রফিক মিয়ার স্ত্রীর মধ্যে হারাম খাওয়ার প্রবণতা রয়েছে যা ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
রফিক মিয়ার চরিত্রে পরিলক্ষিত গুণটি উল্লেখপূর্বক ইসলামে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
রফিক মিয়ার চরিত্রে হালাল উপার্জনের মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে।
ইসলাম অনুমোদিত ও কুরআন-হাদিস নির্দেশিত বৈধ উপায়ে উপার্জন করাকে হালাল উপার্জন বলে। অর্থাৎ কুরআন ও হাদিসে যেসব কাজের অনুমতি রয়েছে এবং যে সম্পর্কে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই সেসব কাজকে হালাল বা বৈধ বলে। হারাম বস্তু গ্রহণ বা অবৈধ পথে উপার্জন থেকে বিরত থাকাও হালাল উপার্জনের শামিল; যা রফিক মিয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, রিকশাচালক রফিক মিয়ার রিকশায় একদিন এক যাত্রী তার ব্যাগ রেখে চলে যাওয়ার সময় সে ঐ লোকটিকে ডেকে তার ব্যাগ ফেরত দেয়। এর মাধ্যমে সে হারাম থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে। অর্থাৎ সে একজন হালাল উপার্জনকারী। ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত।
সালাত, সাওম, জাকাত ও হজ প্রভৃতির মতো হালাল উপার্জনও একটি ফরজ ইবাদত। হালাল উপার্জনের মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশ পালন করার পাশাপাশি আত্মিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। এটি ব্যক্তি ও সমাজের জন্য সামগ্রিক কল্যাণ বয়ে আনে। পরিশেষে বলা যায়, হালাল উপার্জন করা আল্লাহর নির্দেশ।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করতে হলে হালাল উপার্জন দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। তাই হালাল উপার্জন করা মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যক।

