• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইসলাম ও ব্যক্তিজীবন
ইসলাম ও ব্যক্তিজীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনাব আরাফাত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তিনি নিয়মিত সালাতসহ ইসলামের অন্যান্য বিধানাবলি পালন করে থাকেন। কিন্তু ঘুষ নেওয়া ছাড়া তিনি অফিসের ফাইল সই করেন না। স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাহেব বিষয়টি জানার পর মন্তব্য করলেন "ইবাদতের পূর্বশর্ত হলো বৈধ উপার্জন।"

উদ্দীপকের জনাব আরাফাতের উপার্জন কীরূপ? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকের জনাব আরাফাতের উপার্জন হলো ঘুষ, যা ইসলামে হারাম হিসেবে বিবেচিত।

ঘুষ একটি জঘন্যতম সামাজিক অনাচার। যে বস্তু বা বিষয় লাভের অধিকার ব্যক্তির নেই সে যদি দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে কোনো কিছু দেওয়ার মাধ্যমে সে অধিকার লাভ করে তাহলে তা ঘুষ বলে বিবেচিত হবে। ঘুষ শুধু অর্থের লেনদেন নয়, বরং অন্যায় সুবিধা নেওয়ার জন্য যা কিছু দেওয়া হয় তা ঘুষের পর্যায়ভুক্ত। অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে এটি একটি হারাম পন্থা। মুমিনদের জন্য ঘুষ লেনদেন ইসলামে নিষেধ করা হয়েছে। যা আরাফাতের কর্মকাণ্ডের মধ্যে পাওয়া যায়।

উদ্দীপকের জনাব আরাফাত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তিনি নিয়মিত সালাতসহ ইসলামের অন্যান্য বিধান পালন করলেও ঘুষ ছাড়া অফিসের ফাইল সই করেন না। অর্থাৎ তিনি ঘুষের বিনিময়ে কাজ করেন। অফিসের ফাইল সই করার বিনিময়ে তিনি যে ঘুষ নেন তা সম্পূর্ণ হারাম উপার্জন।

আল্লাহ বলেন, 'বলুন মুহাম্মদ (স), হারাম ও অপবিত্র জীবিকা এবং পবিত্র জীবিকা সমান নয়। যদিও হারামের আধিক্য তোমাদের বিস্মিত করে। অতএব, হে বুদ্ধিমানগণ, আল্লাহকে ভয় কর' (সুরা আল মায়িদা: ১০০)। জনাব আরাফাত অফিসের ফাইল সই করার কারণে তিনি পৃথিবীতে অসম্মানিত হবেন এবং পরকালে কঠোর শাস্তি পাবেন।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

সবর শব্দের অর্থ কী?

সবর শব্দের অর্থ ধৈর্যধারণ করা।

#

"ইমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ ছেড়ে দেওয়া"-ব্যাখ্যা করো।

ইমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী অন্যতম মানদণ্ড হলো নামাজ।

নামাজ ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির ওপর ফরজ। আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করা মুমিনদের ওপর ফরজ" (সুরা আন নিসা: ১০৩)। এটি এমন এক মৌলিক ইবাদত যার মাধ্যমে ইমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা যায়। যে ব্যক্তি সঠিকভাবে নামাজ আদায় করে সে মুমিন। আর নামাজ আদায় না করা কুফরি হিসেবে বিবেচিত হয়। রাসুল (স) বলেন, "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দিলো, সে যেন কুফরি করলো" (সহিহ ইবন হিব্বান)।

#

ইমাম সাহেবের মন্তব্যের যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

'ইবাদতের পূর্বশর্ত হলো বৈধ উপার্জন'- ইমাম সাহেবের এ মন্তব্য যথার্থ।

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন কেবল তাঁর ইবাদতের জন্য। আর হালাল উপার্জন ছাড়া কোনো ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান পূর্বশর্ত হলো হালাল বা বৈধ উপার্জন। হারাম খাদ্য খেয়ে ইবাদত করলে তা আল্লাহর কাছে কবুল হয় না।

রাসুল (স) বলেন, "মানুষ দীর্ঘপথ অতিক্রম করে (কাবায় আসে দোয়া কবুলের আশায়) অবিন্যস্ত চুলে ধূলি ধূসরিত অবস্থায় আকাশের দিকে দু'হাত তুলে ধরে বার বার বলতে থাকে, হে আমার প্রতিপালক! হে আমার রব। অথচ তার খাবার হারাম, তার পানীয় হারাম, হারাম তার পোশাক, এমনকি সে লালিত-পালিত হয়েছে হারামভাবে। এমন ব্যস্তির দোয়া কীভাবে কবুল হবে?" অন্যত্র তিনি বলেন, "যে গোশত হারাম জীবিকা দ্বারা গঠিত তা বেহেশতে প্রবেশ করবে না।”হারাম উপার্জন ইসলামি বিধানের পরিপন্থি। তাই এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

উদ্দীপকের জনাব আরাফাত নিয়মিত সালাতসহ ইসলামের অন্যান্য বিধান পালন করলেও তিনি ঘুষের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেন। অর্থাৎ তিনি হারাম উপার্জন দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ কারণে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। তাই ইমাম সাহেব মন্তব্য করেছেন, "ইবাদতের পূর্বশর্ত হলো বৈধ উপার্জন।"
ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করতে হলে হালাল উপার্জন দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। অন্যথায় আমাদের ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। সুতরাং বলা যায়, ইমাম সাহেবের মন্তব্যটি যথার্থ।