• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইসলাম ও ব্যক্তিজীবন
ইসলাম ও ব্যক্তিজীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

রাইয়ান ইলেকট্রিক মিডিয়ায় "ইসলামে সুফিবাদ ও তাসাউফ” শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান দেখল। অনুষ্ঠানটি দেখে সে উপলব্ধি করতে সক্ষম হলো যে মানুষের পরিশুদ্ধির উপরই জীবনের সফলতা নির্ভর করে। আর এজন্যই ইসলাম জীবন দর্শনে মানুষের আত্মশুদ্ধির উপর জোর তাগিদ দেয়।

তাওয়াক্কুল অর্থ কী?

তাওয়াক্কুল অর্থ ভরসা করা, নির্ভর করা ইত্যাদি।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

তাকওয়া বলতে কী বুঝ?

তাকওয়া বলতে আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে যাবতীয় কাজকর্ম সম্পাদনকে বোঝায়।

তাকওয়া (التقوى) ( শব্দটি ওয়াকিউন (وَفَّى) শব্দমূল থেকে নিষ্পন্ন। এর শাব্দিক অর্থ রক্ষা করা, বিরত থাকা, বাঁচিয়ে রাখা। এর মূল অর্থ হলো আত্মরক্ষা করা। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা হারানো আর পরিণামে চিরস্থায়ী ধ্বংসের মধ্যে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কায় সব রকমের পাপাচার ও অন্যায় থেকে বিরত থাকাকে তাকওয়া বলে।

#

রাইয়ানের উপলব্ধি উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

রাইয়ানের উপলব্ধি তথা মানুষের পরিশুদ্ধি বা তাসাউফের উপরই জীবনের সফলতা নির্ভর করে, যা যথার্থ ও যৌক্তিক।

তাসাউফ হলো ইসলামের অভ্যন্তরীণ দিক। এটি মূলত আত্মশুদ্ধি অর্জনের পথ বা সোপান। স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আধ্যাত্বিক ধ্যান ও জ্ঞানের মাধ্যমে জানার প্রচেষ্টাকে তাসাউফ বলে। আর তাসাউফ অর্জনের মাধ্যমেই জীবনের সফলতা লাভ করা যায়।

উদ্দীপকে এই বিষয়টিই ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, রাইয়ান ইলেকট্রিক মিডিয়ায় 'ইসলামে সুফিবাদ ও তাসাউফ' শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান দেখল। যা দেখে সে উপলব্ধি করতে সক্ষম হলো যে, তাসাউফ বা মানুষের পরিশুদ্ধির উপরই জীবনের সফলতা নির্ভর করে। আর তাই ইসলাম জীবন দর্শনে মানুষের আত্মশুদ্ধির উপর জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

মূলত ইসলামের প্রাথমিক যুগেই তাসাউফের উৎপত্তি হয়েছে। নবি-রাসুলগণ দিনের বেলায় দীন প্রচার করতেন এবং গভীর রাতে আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থেকে তাসাউফ সাধনা করতেন এবং এর মাধ্যমেই তারা আত্মশুদ্ধির চূড়ায় আরোহণ করতেন। তাসাউফের মাধ্যমেই কেবল মানুষ নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে পারে। আর এর ওপরেই মানুষের সার্বজনীন সফলতা নির্ভর করে।

তাসাউফের সাধনা ব্যক্তির সামগ্রিক পরিশুদ্ধতার নির্দেশক বলে একে স্থায়ী কল্যাণ ও সফলতা লাভের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যে কল্যাণ লাভ করেছে, সে নিজেকে পবিত্র করেছে। আর ধ্বংস হয়েছে সে, যে নিজের আত্মাকে অপবিত্র করেছে"। (সুরা আল-শামস: ৯-১০) সুতরাং তাসাউফ সম্পর্কে রাইয়ানের উপলব্ধিটি যথার্থ।

#

ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মশুদ্ধির উপায়সমূহ লিখ।

যাবতীয় সৎ গুণাবলি অর্জন এবং অশ্লীল ও পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা কারার মাধ্যমে তাসাউফ বা আত্মশুদ্ধি অর্জন করা যায়।

আত্মশুদ্ধিকে সুফিবাদের পরিভাষায় তাসাউফ বলে। প্রখ্যাত সুফি দার্শনিক ইমাম গাযযালি (র.)-এর মতে মতে, "তাসাউফ হলো আল্লাহ ছাড়া অপর মন্দ সবকিছু থেকে আত্মাকে পবিত্র করে সর্বদা আল্লাহর নিমজ্জিত থাকা এবং সম্পূর্ণরূপে আল্লাহতে নিমগ্ন হওয়ার নাম।"

ইসলামের দৃষ্টিতে তাসাউফ বা আত্মশুদ্ধি অর্জনের কিছু উপায় হলো-সৎগুণাবলি অর্জন এবং যাবতীয় অশ্লীল ও পাশবিক চরিত্রের দমন করার মাধ্যমে তাসাউফ বা আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে যায়। ঐকান্তিকতার সাথে আমল করার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ প্রিয় হতে পারে।

মহানবি (স.) ইরশাদ করেন- 'তুমি এমনভাবে ইবাদত করো, যেন আল্লাহকে দেখছ। আর তুমি যদি আল্লাহকে নাও দেখতে পারো, তবে মনে রেখো আল্লাহ তোমাকে দেখছেন' (মিশকাত)। ধ্যান মগ্ন হওয়া- দুনিয়ার যাবতীয় স্বার্থান্বেষী চিত্তা থেকে মুক্ত হয়ে শুধু আল্লাহর ধ্যানে নিজেকে মগ্ন করতে পারলে আল্লাহ বান্দাকে তার নৈকট্য লাভে সুযোগ দেন। ইহতিসাব বা নিজের ওপর অন্যের অভিযোগকে একনিষ্ঠভাবে গ্রহণ করা।

পরিশেষে বলা যায় যে, পূত-পবিত্র মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে তাসাউফ বা আত্মশুদ্ধি অর্জন করা যায়।