- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- অর্থায়ন ও ব্যবসায় অর্থায়ন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
পাঠ্যবইয়ের অনুশীলনীর ২নং সৃজনশীল প্রশ্ন
:
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
একজন ব্যবসায়ীর কোন ধরনের জ্ঞান থাকলে পরিকল্পনামাফিক স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থসংস্থান করতে পারে? ব্যাখ্যা কর।
একজন ব্যবসায়ীর 'অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা' বিষয়ক জ্ঞান থাকলে পরিকল্পনামাফিক স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থসংস্থান করতে অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা একজন ব্যবসায়ীকে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে কোন উৎস থেকে কী পরিমাণ তহবিল সর্বনিম্ন ব্যয়ে সংগ্রহ করা যাবে সে বিষয়ে জ্ঞানদান করে। এতে স্বল্প ব্যয়সম্পন্ন বিভিন্ন উৎস হতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থসংস্থান করে একজন ব্যবসায়ী অর্থের সদ্ব্যবহার করে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনে সফলকাম হয়। তাই অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জ্ঞান একজন ব্যবসায়ীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
অর্থায়ন কী?
তহবিল সংগ্রহ ও ব্যবহারসংক্রান্ত প্রক্রিয়াকে অর্থায়ন বলে।
'ক' প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে অর্থায়ন করতে পারে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের 'ক' প্রতিষ্ঠানটি একমালিকানা ব্যবসায় হওয়ায় এর মালিক নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে ব্যবসায়ে অর্থায়ন করতে পারে।
একমালিকানা ব্যবসায়ে লাভ হলে মালিক একাই ভোগ করে এবং লোকসান হলে ক্ষতিপূরণের জন্য মালিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তিও ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের ব্যবসায়ে মালিকের নিজস্ব তহবিল ছাড়াও বিভিন্ন উৎস থেকে গৃহীত ঋণ ব্যবসায়ে ব্যবহার করা হয়।
উদ্দীপকের 'ক' প্রতিষ্ঠানের মালিক একাই ব্যবসায়ের মুনাফা বা ক্ষতির ভোগকারী। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি হলো একটি একমালিকানা প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে ব্যবসায়ে অর্থায়ন করতে পারে। তহবিল অপর্যাপ্ত হলে বাণিজ্যিক ব্যাংক কিংবা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ করে ব্যবসায়ে অর্থায়ন। করতে পারে। এছাড়া ব্যবসায়ের মুনাফা, গ্রাম্য মহাজন, আত্মীয়স্বজন। থেকে গৃহীত ঋণ, ক্রেতাদের নিকট হতে অগ্রিম গ্রহণ প্রভৃতি উৎসের আধ্যমে ব্যবসায়ে অর্থায়ন করতে পারে। সুতরাং বলা যায়, 'ক' প্রতিষ্ঠানটি একমালিকানা প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লিখিত উপায়ে অর্থায়ন করতে পারে।
উপরিউক্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোন প্রতিষ্ঠানটির ঝুঁকি কম? বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপকে দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায়ের বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতি বিবেচনায় 'খ' প্রতিষ্ঠানটির ঝুঁকি কম।
বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতির আলোকে বিনিয়োগযোগ্য মূলধন বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করা হয়। ফলে কারবারের ঝুঁকি বণ্টিত হয় ও হ্রাস পায়।' এছাড়া অনিশ্চিত পরিস্থিতিতেও মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে 'ক' প্রতিষ্ঠানটির লাভ-ক্ষতির দাবিদার মালিক একাই। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি একটিমাত্র পণ্যের ব্যবসায় করে। তাই উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিককে ব্যবসায়ের সব ঝুঁকি একাই বহন করতে হয়। অর্থাৎ 'ক' প্রতিষ্ঠানটি হলো একমালিকানা ব্যবসায়। অপরদিকে 'খ' প্রতিষ্ঠানটির মালিকের সংখ্যা একাধিক। তাই লোকসান হলে তা সকল মালিকের মধ্যে বণ্টিত হয়। এটি একটি অংশীদারি ব্যবসায়।
উদ্দীপকে 'ক' প্রতিষ্ঠানটির পণ্য শুধু মিনিপ্যাক শ্যাম্পু। কোনো কারণে এ পণ্যের চাহিদা কমে গেলে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে, 'খ' প্রতিষ্ঠানটি বোতলজাত শ্যাম্পু, মিনিপ্যাক শ্যাম্পু ও হারবাল শ্যাম্পু বিক্রি করে। এক্ষেত্রে একটি পণ্যের ব্যবসায়ে ক্ষতি হলে অন্যান্য পণ্যের বিক্রির লাভ দ্বারা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে। যার ফলে ব্যবসায়ের ঝুঁকি বণ্টিত হবে ও হ্রাস পাবে। অর্থাৎ "খ" প্রতিষ্ঠানটি বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি বণ্টন নীতিটি অনুসরণ করে। তাই বলা যায়, 'খ' প্রতিষ্ঠানটি 'ক' প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ।

