- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
ফরিদ ও সেলিম দুই বন্ধু। তারা উভয়ে একটি দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে গেল। ফরিদ সেখানে মাটির তৈরি, মূর্তি ও পাথরের কারুকার্যের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সিজদাহ করার মতো মাথা নত করে সম্মান প্রদর্শন করে। এরপর উভয়ে কেন্টিনে নাস্তা করার এক পর্যায়ে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। সেলিম মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, নবি-রাসুলগণের আগমনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকাই যুক্তিযুক্ত।
নবি-রাসুলগণের আগমন বিষয়ে সেলিমের বক্তব্যের যথার্থতা নিরূপণ করো।
নবি-রাসুলগণের আগমন বিষয়ে সেলিমের বক্তব্য যথার্থ নয়।
মানবজাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। সর্বপ্রথম নবি ছিলেন হযরত আদম (আ.) এবং সর্বশেষ নবি ও রাসুল হলেন হযরত মুহাম্মদ (স.)। এদের মাঝখানে আল্লাই তায়ালা অনেক নবি ও রাসুল পাঠিয়েছেন। নবি-রাসুলগণের আগমনের এ ধারাবাহিকতা শেষ হয়েছে সর্বশেষ নবি ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে। কিন্তু সেলিমের বক্তব্যে এর বিপরীত বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়েছে।
নবি-রাসুলগণের আগমন বিষয়ে সেলিম বলেন, তাদের আগমনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকাই যুক্তিযুক্ত। অর্থাৎ তার বক্তব্য অনুসারে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর পরেও আরও নবি-রাসুল আসতে পারেন। কিন্তু ইসলামের আলোকে তার এ বক্তব্য ঠিক নয়। কেননা আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে 'খাতামুন নাবিয়্যিন' তথা সর্বশেষ নবি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন। বরং তিনি তো আল্লাহর রাসূল ও শেষ নবি।' (সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৪০) রাসুলুল্লাহ (স.) নিজেও বলেছেন, 'রিসালাত ও নবুয়তের ধারা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমার পর আর কোনো নবি আসবেন না।' (জামি তিরমিযি)
উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন সর্বশেষ নবি। তাঁর মাধ্যমে নবুয়তের ধারা সমাপ্ত এবং দীনের পূর্ণতা ঘোষিত হয়েছে। কাজেই নবি-রাসুলগণের আগমন বিষয়ে সেলিমের বক্তব্য যথার্থ নয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
ইসলাম-এর ব্যবহারিক অর্থ কী?
ইসলাম-এর ব্যবহারিক অর্থ আল্লাহ তায়ালা ও রাসুল (স.)-এর আনুগত্য করা।
আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য কেন? ব্যাখ্যা করো।
ইমানের মৌলিক বিষয় হওয়ায় আখিরাতে বিশ্বাস অপরিহার্য।
মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য আখিরাতে মানুষকে জবাবদিহি করতে হবে। তাই এতে বিশ্বাস মানুষকে পাপকাজ থেকে বিরত রাখে এবং পুণ্যকাজে উৎসাহ দেয়। এছাড়া আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া কেউ প্রকৃত ইমানদার হতে পারে না। এসব কারণে একজন মুসলিমের জন্য আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য।
ফরিদের আচরণে যে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ফরিদের আচরণে অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ শিরক প্রকাশ পেয়েছে।
শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়।
ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করাও শিরকের অন্তর্ভুক্ত। যেমন- আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে সিজদাহ করা, অন্য কারও নামে পশু জবাই করা প্রভৃতি। ফরিদের আচরণে এ ধরনের বৈশিষ্ট্যই দেখা যায়।
ফরিদ একটি দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে গিয়ে মাটির তৈরি মূর্তি ও পাথরের কারুকার্যের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সিজদাহ করার মতো মাথা নত করে। তার এ কাজ ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ সিজদাহ শুধু আল্লাহকেই করা যায়। তাঁকে ছাড়া অন্য কারও সামনে সিজদাহ করা বা মাথা নত করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। এতে আল্লাহর সম্মান ও মর্যাদার সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করা হয়। সুতরাং বলা যায়, ফরিদের আচরণে শিরক প্রকাশ পেয়েছে।

