• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

প্রেক্ষাপট- ১ : আদ্যক্ষর সু নামক প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তার পেশাগত প্রশিক্ষণ, এমনকি ডিপ্লোমা সনদ নেই।' তারপরও তারা চিকিৎসক ও সেবিকা সেজে স্পর্শকাতর পরীক্ষা চালাচ্ছেন ও লোকজনকে টিকা দিচ্ছেন। এই সুযোগে তারা হাজার হাজার টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন।

প্রেক্ষাপট- ২ : অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এভাবে বাড়তে থাকলে খুব শীঘ্রই মানবজাতি জীবাণুর জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রাণরক্ষার যুদ্ধে পরাস্ত হবে। গৃহপালিত পশুপাখিকে রোগমুক্ত রেখে কম সময়ে অধিক উৎপাদনের লক্ষ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের অবাধ ব্যবহার হয়ে আসছে। পোলট্রিতে উৎপাদন বাড়াতে অর্থাৎ পোলট্রির দৈহিক বৃদ্ধির জন্য অনেক খামারি। গ্রোথ প্রোমোটার হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে। যা হৃদরোগীর জন্য খুবই ক্ষতিকর।

'তাওহিদের স্বরূপ' ব্যাখ্যা করো।

তাওহিদ আরবি শব্দ। এর অর্থ একত্ববাদ।

ইসলামি শরিয়তের পরিভাযায়, মহান আল্লাহকে এক এবং অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে স্বীকার করে নেওয়াকে তাওহিদ বলে। তাওহিদের মূল কথা হলো-মহান আল্লাহ তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে এক ও অদ্বিতীয়। তিনি সকল প্রশংসা এবং ইবাদতের একমাত্র মালিক। কোনো কিছুই তাঁর সাথে তুলনীয় নয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

আল্লাহর নিকট একমাত্র জীবনব্যবস্থা কী?

আল্লাহর নিকট একমাত্র জীবনব্যবস্থা হচ্ছে ইসলাম।

সহায়ক তথা

শরিয়তের সর্বশেষ ও পূর্ণাফা রূপ হলো ইসলাম। এটি হলো মানবজাতির জন্য নির্দেশিত সর্বশেষ ও সর্বোত্তম জীবনবিধান। আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ইসলামই একমাত্র মনোনীত জীবনব্যবস্থা।" (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৯)

#

১ নম্বর প্রেক্ষাপটে কোন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

১ নম্বর প্রেক্ষাপটে নিফাক প্রকাশ পেয়েছে।

'নিফাক' শব্দের অর্থ ধোঁকাবাজি, ভন্ডামি, প্রতারণা, কপটতা, দ্বিমুখী ভাব পোষণ করা প্রভৃতি। এর ব্যবহারিক অর্থ অন্তরে বিরোধিতা গোপন রেখে বাইরে আনুগত্য প্রদর্শন করা। ১ নম্বর প্রেক্ষাপটে এ বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আদ্যক্ষর 'সু' নামক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে যারা নিফাক করে তারা বাহ্যিকভাবে ইসলামকে স্বীকার করে, কিন্তু অন্তরে কুফর লুকিয়ে রেখে মানুষকে ধোঁকা দেয়। যারা এ ধরনের কাজ করে তারা মুনাফিক। মহান। আল্লাহ মুনাফিক সম্পর্কে বলেছেন, 'আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন, যে নিঃসন্দেহে মুনাফিকরা মিথ্যাবাদী।' (সূরা মুনাফিকুন, আয়াত ১) মহানবি (স.) মুনাফিকের যে তিনটি চিহ্নের কথা বলেছেন তার মধ্যে মিথ্যা বলা একটি। সুতরাং বলা যায়, মিথ্যা ও ধোঁকার আশ্রয় নেওয়ায় ১ নম্বর প্রেক্ষাপটে নিফাক প্রকাশিত হয়েছে।

#

২ নম্বর প্রেক্ষাপটে যে বিষয়টি ফুটে ওঠে, তা 'সৎকর্মশীল হতে। ও নৈতিক জীবন গঠনে আখিরাতে বিশ্বাসের ভূমিকা'র আলোকে বিশ্লেষণ করো।

২ নম্বর প্রেক্ষাপটের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নৈতিকতাবিরোধী একটি অসৎকর্ম।আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে এ ধরনের নৈতিকতাবিরোধী কাজ থেকে দূরে রাখতে পারে।

কাজে-কর্মে, আচার-আচরণে নীতি ও আদর্শের অনুশীলনই নৈতিকতা। মুমিন ব্যক্তিরা নৈতিকতার ধারক। তারা সবসময় সৎকাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন এবং অন্যায় কাজ থেকে দূরে থাকেন। কারণ তারা পরকালে দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন। আখিরাতে জবাবদিহিতার ভয়ে তারা সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ হন। কিন্তু ২ নম্বর প্রেক্ষাপটে এর ভিন্ন চিত্র লক্ষণীয়।

২ নম্বর প্রেক্ষাপটে, বলা হয়েছে, গৃহপালিত পশুপাখিকে রোগমুক্ত রেখে কম সময়ে অধিক উৎপাদনের লক্ষ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের অবাধ ব্যবহার হয়ে আসছে। এ অ্যান্টিবায়োটিক মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি একটি নীতিবিরুদ্ধ এবং অনৈসলামিক কাজ। মুমিন ব্যক্তিরা জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতি ও আদর্শের অনুসরণ করেন। কুরআনে বলা হয়েছে, 'তোমরা সর্বোত্তম জাতি, তোমাদেরকে মানবজাতির কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।' (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত ১১০) সৎকর্মশীল ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য মানবজাতির অকল্যাণ থেকে বিরত থাকে। কারণ তারা জানেন পরকালে তাদের প্রতিটি কাজের জবাবদিহি করতে হবে। ভালো কাজের জন্য জান্নাত এবং খারাপ কাজের জন্য জাহান্নামে শাস্তি পেতে হবে।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আখিরাতে বিশ্বাসের অভাবেই ২. নম্বর প্রেক্ষাপটে বর্ণিত ব্যক্তিরা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। চিরশান্তির স্থান জান্নাত লাভের প্রত্যাশা এবং জাহান্নামের শাস্তির ভয় সৃষ্টি করে তাদেরকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত রাখা সম্ভব।