• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনাব সাহেদ সন্তানের সুস্থতার আশায় তার পিরের নামে একটি গরু জবাই করেন। অপরদিকে তার বন্ধু আনোয়ার' সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখেন। সেখানে আলিফ নামক এক ব্যক্তি দাবি করে যে, নবি-রাসুলের আগমন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটি কিয়ামত পর্যন্ত চলমান থাকবে। মুহাম্মদ (স.)-এর পর আহমদ নামে পৃথিবীতে আরও একজন নবি এসেছিলেন।

কুফর বলতে কী বোঝ?

ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটির প্রতি অবিশ্বাস করাকে কুফর বলা হয়।

কুফর শব্দের অর্থ অস্বীকার করা, ঢেকে রাখা, গোপন করা ইত্যাদি। এটি ইমানের বিপরীত। যে ব্যক্তি কুফরে লিপ্ত হয় তাকে বলা হয় কাফির। কুফরের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

ইমান কী?

শরিয়তের যাবতীয় বিধি-বিধান অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং সে অনুযায়ী আমল করাকে ইমান বলে।

সহায়ক তথ্য

ইমানের পরিচয় সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ইমান হচ্ছে-আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ, রাসুলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের (ভালো-মন্দ আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকেই হয়) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।" (মুসলিম)

#

সাহেদের কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা করো।

জনাব সাহেদের কর্মকাণ্ডে শিরক ফুটে উঠেছে।

শিরক শব্দের অর্থ হলো অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। মূলত আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। সাহেদের কর্মকাণ্ডেও অনুরূপ দৃষ্টান্ত দেখা যায়।
উদ্দীপকে জনাব সাহেদ সন্তানের সুস্থতার আশায় তার পিরের নামে একটি গরু জবাই করেন। ইসলামের দৃষ্টিতে তার এ কাজটি শিরকের অন্তর্ভুক্ত। কারণ অসুস্থতা থেকে সুস্থতা দানের একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ। এ ক্ষেত্রে পিরের সুস্থতা দানের কোনো ক্ষমতা নেই। তাই পিরের কাছে সুস্থতা প্রার্থনা করার অর্থ হলো তাকে মহান আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা, যা সুস্পষ্টভাবে শিরকের পর্যায়ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা নিজেই শিরকের ধারণা খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেন, 'বলুন (হে নবি) তিনি আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়।' (সূরা আল-ইখলাস, আয়াত ১) অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।' (সূরা আশ-শূরা, আয়াত ১১), আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা ইসলামে চরম জুলুম হিসেবে গণ্য। কিন্তু জনাব সাহেদ পিরের নামে গরু জবাই করে সন্তানের সুস্থতা কামনা করে আল্লাহকে একমাত্র সত্তা হিসেবে মেনে নেওয়ার ধারণা থেকে বিচ্যুত হয়েছেন, যা শিরকের সমতুল্য।

#

আলিফের বক্তব্যের অসারতা কুরআন ও হাদিসের আলোকে প্রমাণ করো।

উদ্দীপকে আলিফের বক্তব্য খতমে নবুয়তের পরিপন্থি হওয়ায় কুরআন ও হাদিসের আলোকে তা অসার বা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

খতমে নবুয়ত অর্থ নবুয়তের পরিসমাপ্তি। হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন সর্বশেষ নবি। তাঁর মাধ্যমে দীনের পূর্ণতা ঘোষিত হয়েছে। এ ধারণাই খতমে নবুয়তের মূলকথা। কিন্তু আলিফের বক্তব্যটি এ বিষয়টির বিপরীত।

তার উদ্দীপকে আনোয়ার সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখেন, যেখানে আলিফ নামক একজন ব্যক্তি দাবি করে যে, নবি-রাসুলের আগমন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটি কিয়ামত পর্যন্ত চলমান থাকবে। মুহাম্মদ (স.)-এর পর আহমদ নামে পৃথিবীতে আরও একজন নবি এসেছিলেন। এরূপ বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে অসার বা-মিথ্যা। কারণ, মহানবি (স.)-এর পরে আর কোনো নবি-রাসুল আগমন করবেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, 'মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং শেষ নবি।' (সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৪০) আর তিনি কিয়ামত পর্যন্ত আগত সব মানুষের নবি। সব মানুষের জন্য তাঁর শিক্ষাই যথেষ্ট। এ সম্পর্কে রাসুল (স.) নিজেই বলেন, 'আমিই শেষ নবি। আমার পরে কোনো নবি নেই।' (সহিহ মুসলিম) তাই আর কোনো, নবি-রাসুল আসার প্রয়োজনও নেই। এ বিষয়ে বিশ্বাসই হলো খতমে নবুয়তে বিশ্বাস। আর এ বিশ্বাস ইমানের অন্যতম অঙ্গ। এতে অবিশ্বাস মানুষকে বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট করে তোলে। ফলে মানুষের জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। মানুষ অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়ে পড়বে এবং ইহকাল ও পরকালে সফলতা লাভে ব্যর্থ হবে।

পরিশেষে বলা যায়, আলিফের বক্তব্যটিতে খতমে নবুয়তের প্রতি অবিশ্বাস ফুটে উঠেছে, কুরআন ও হাদিসের আলোকে যার কোন সত্যতা নেই।