• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • প্রত্যুপকার (গদ্য)
প্রত্যুপকার (গদ্য)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

গ্রামের প্রভাবশালী চেয়ারম্যানের চাকর রফিক। বন্যাকবলিত, মানুষদের সাহায্যের জন্য ত্রাণসামগ্রী এলে চেয়ারম্যান সেগুলো মজুদ করে রাখেন। এ বিষয়টি রফিক জানার পরে গ্রামের মানুষদের সব বলে দিতে চায়। তখন চেয়ারম্যান রফিককে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তারপরও রফিক সত্য প্রকাশে বিরত হয় না। সে ভাবে, প্রাণ গেলেও জনগণের অধিকার আমি ক্ষুণ্ণ হতে দেব না। সত্যের পথ থেকে আমি বিচলিত হব না। তারপর সে গ্রামবাসীকে সব বলে দেয় এবং সবাইকে নিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় ।

“এ জন্য পৃথিবীতে যত স্থান আছে ঐ স্থান আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয়”— উক্তিটি আলী ইবনে আব্বাস কেন করেছিলেন?

উক্তিটি আলী ইবনে আব্বাস আশ্রয়দাতা ব্যক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ অর্থে করেছিলেন।

আলী ইবনে আব্বাস জীবন বাঁচানোর জন্য ডেমাস্কাসের এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেই ব্যক্তি তাকে নিরাপদে আশ্রয় দিয়ে তার জীবন রক্ষা করেন। দীর্ঘ এক মাস তিনি সেই ব্যক্তির আশ্রয়ে ছিলেন। বিদায়ের সময় আশ্রয়দাতার অন্যান্য সহযোগিতায় মুগ্ধ হন আলী ইবনে আব্বাস। আর সে কারণেই তিনি প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

আলী ইবনে আব্বাস কত দিন জনৈক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির গৃহে আশ্রয় নিয়েছিলেন?

আলী ইবনে আব্বাস এক মাস জনৈক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির গৃহে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

#

উদ্দীপকের রফিকের সঙ্গে আলী ইবনে আব্বাসের সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা কর ।

সত্য প্রকাশের দিক থেকে রফিকের সঙ্গে আলী ইবনে আব্বাসের সাদৃশ্য রয়েছে।

সত্যের শির সদা উন্নত। যারা মিথ্যার সঙ্গে আপস না করে সত্য প্রকাশ করে তারাই প্রকৃত ব্যক্তিত্ববান। এ ধরনের মানুষ সত্য প্রকাশের জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি পর্যন্ত নেয় ।

‘প্রত্যুপকার' সকৃতজ্ঞ প্রতি-উপকারের আখ্যান। এ রচনায় দেখা যায়, আলী ইবনে আব্বাসের কাছে খলিফা মামুন এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে রাখেন। বন্দি লোকটি হলো সেই ব্যক্তি যিনি আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণরক্ষা করেছিলেন। ঘটনাক্রমে আলী ইবনে আব্বাস জানতে পারেন বন্দি লোকটির কোনো দোষ নেই। তিনি অন্য কারও হিংসার শিকার। তখন আলী ইবনে আব্বাস নিজের বিপদ হতে পারে জেনেও খলিফা মামুনের কাছে ওই বন্দি সম্পর্কিত সব সত্য প্রকাশ করেন। এদিকে উদ্দীপকে রফিকের মধ্যেও একই চরিত্রের প্রকাশ দেখা যায়। চেয়ারম্যানের রোষানলে পড়বে জেনেও সে জনগণের অধিকারের পক্ষে থাকে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও সে চেয়ারম্যানের কুকীর্তির কথা প্রকাশে তৎপর হয়। মূলত সত্য প্রকাশের এই দিক থেকে আলী ইবনে আব্বাস ও উদ্দীপকের রফিক সাদৃশ্যপূর্ণ ।

#

“উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার' গল্পের মূলভাব ধারণ করতে পারেনি।”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

“উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাব ধারণ করতে পারেনি।”— মন্তব্যটি যথার্থ ।

সমাজে বসবাস করতে হলে সবার সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব থাকতে হয়। আর সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব তখনই বজায় থাকে যখন মানুষের মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ থাকে । কৃতজ্ঞতাবোধ সুন্দর সমাজ গঠনের অন্যতম উপায় ।

‘প্রত্যুপকার' সকৃতজ্ঞ প্রতি-উপকারের আখ্যান। গল্পে দেখা যায়, আলী ইবনে আব্বাস দামেস্কে গিয়ে বিপদে পড়েন। তখন সম্ভ্রান্ত এক ব্যক্তি তাঁকে আশ্রয় দান করেন এবং তাঁর জীবন বাঁচান। ঘটনাক্রমে সেই ব্যক্তি বাগদাদের খলিফা মামুনের রোষানলে পড়ে বন্দি হন এবং তাঁকে আলী ইবনে আব্বাসের জিম্মায় রাখা হয়। প্রসঙ্গক্রমে আলী ইবনে আব্বাস তাঁকে চিনতে পারেন আর জানতে পারেন যে তিনি নির্দোষ। তখন আলী ইবনে আব্বাস খলিফা মামুনের কাছে বন্দি ব্যক্তির ব্যাপারে সব কথা প্রকাশ করেন। বন্দির উপকারী মনোভাবের কথা জানতে পেরে খলিফা মামুন তাঁকে সসম্মানে দামেস্কে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। মূলত আলোচ্য গল্পে প্রতি- উপকার, মহানুভবতা, সত্য প্রকাশে ভয়হীনচিত্ত এসব বিষয় উঠে এসেছে। এদিকে উদ্দীপকে কেবল সত্য প্রকাশ ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার দিকটি উঠে এসেছে।

উদ্দীপকের রফিক অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি এবং সত্য প্রকাশে বিচলিত হয়নি, যা আলী ইবনে আব্বাসের সত্য প্রকাশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর গল্পের যে মূল সকৃতজ্ঞ প্রতি-উপকার তার কোনো ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।