- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব 'ক' পরীক্ষার আগে একটি মাজারে গিয়ে পিরের নামে একটি ছাগল কুরবানি করে এবং তার পরীক্ষার ভালো ফলাফল কামনা। করে। তার বন্ধু 'খ' ইউরোপে পড়াশুনা করতে গিয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। দেশে ফেরার পর কোনো এক রাতে মদ পান করতে দেখলে তার মা তাকে বললেন, তোমার কাজটি সঠিক নয়। উত্তরে 'খ' বলল, আমার। মনে হয় এতে দোষের কিছু নেই।
জনাব 'খ'-এর কর্মকাণ্ড চিহ্নিতপূর্বক তার পরিণতি বিশ্লেষণ। করো।
জনাব 'খ'-এর কর্মকাণ্ডে কুফরি প্রকাশ পেয়েছে, যার পরিণতি খুবই ভয়াবহ।
কুফর শব্দের অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ইত্যাদি। আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো, একটির প্রতি অবিশ্বাস করাকেই কুফর বলা হয়। এ ধরনের কাজের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব ও গুণাবলিকে অবিশ্বাস বা অস্বীকার করা, হালালকে হারাম বা হারামকে হালাল মনে করা, ইচ্ছাকৃতভাবে কাফিরদের অনুকরণ করা, ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা প্রভৃতি। এগুলোর মধ্যে 'খ'-এর মানসিকতায় হারামকে হালাল মনে করার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়, যার কুফল এবং পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
উদ্দীপকের 'খ' মদ পান করাকে বৈধ মনে করে। তার এরূপ মনোভাব কুফরের অন্তর্ভুক্ত। কারণ সে ইসলামে হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ মনে করে। প্রকৃতপক্ষে যারা কুফরি করবে দুনিয়া এবং আখিরাত উভয় স্থানেই তাদেরকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে। কুফর মানবসমাজে পাপাচার বৃদ্ধি করে এবং অনৈতিকতার প্রসার ঘটায়। কাফিরদের কাছে দুনিয়ার জীবনই সবকিছু বলে মনে হয়। তাই তারা হালাল-হারাম, নীতি-নৈতিকতা বিবেচনা না করে যা খুশি তাই করে বেড়ায়। ফলে সমাজে মিথ্যাচার, অনাচার, ব্যভিচার প্রভৃতি পাপ কাজ প্রসার লাভ করে। এ ধরনের কাজের জন্য কাফিররা জাহান্নামে অনন্তকালের শাস্তি ভোগ করবে। আল্লাহ বলেন, 'যারা কুফরি করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।' (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৩৯)
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, 'খ'-এর মনোভাবে কুফরির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এর প্ররকালীন পরিণতি চিরস্থায়ী জাহান্নাম এবং ইহকালীন পরিণতি অত্যন্ত মারাত্মক।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
নিফাক কী?
অন্তরে বিরোধিতা গোপন রেখে বাইরে আনুগত্য প্রদর্শন করার নামই নিফাক।
আখিরাতে বিশ্বাস করতে হবে কেন? ব্যাখ্যা করো।
ইমানের মৌলিক বিষয় হওয়ায় আখিরাতে বিশ্বাস অপরিহার্য।
মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। আখিরাতে মানুষকে তার দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাই আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে পাপকাজ থেকে বিরত রাখে এবং পুণ্যকাজে উৎসাহ যোগায়। এছাড়া আখিরাতে বিশ্বাস ছাড়া কেউ প্রকৃত ইমানদার হতে পারে না। এসব কারণে একজন মুসলিমের জন্য আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য।
জনাব 'ক'-এর কর্মকান্ডে কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা। করো।
জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ডে শিরক ফুটে উঠেছে।
শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা। ইসলামি পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। শিরক তাওহিদের বিপরীত। আল্লাহর সাথে শিরক চার ধরনের হতে পারে। এর অন্যতম একটি হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা। যেমন- আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদাহ করা, কারো নামে পশু জবাই করা ইত্যাদি। জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ডে এমনটিই লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের জনাব 'ক' পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের আশায় মাজারের পিরের নামে একটি ছাগল জবাই করে। তার এ কাজটি আল্লাহর ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরক করার শামিল। তাই শিরককারী হিসেবে জনাব 'ক'-কে কঠিন আযাব ভোগ করতে হবে। বস্তুত শিরক অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে সবচেয়ে বড় জুলুম হলো শিরক। আল্লাহ তায়ালা বলেন - - إِنَّ الشَّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ অর্থ: 'নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম।' (সূরা লুকমান, আয়াত ১৩) আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি অপার ক্ষমাশীল ও অসীম দয়াময় হওয়া সত্ত্বেও শিরকের অপরাধ ক্ষমা করেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এছাড়া যেকোনো পাপ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।' (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৮) সুতরাং বলা যায়, জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ড ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ শিরকের অন্তর্ভুক্ত।

