• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনাব 'ক' আমেরিকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তার দায়িত্ব ছিল আমেরিকায় রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করা, রাশিয়ার স্বার্থরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং রাশিয়ান সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তা সঠিকভাবে আমেরিকান সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়া। কিন্তু তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করে মাঝে মাঝে কিছু গোপন তথ্য আমেরিকান বিভিন্ন সংস্থার কাছে প্রকাশ করে দিতেন। এটা ছিলো একটি মারাত্মক অপরাধ এবং রাশিয়ার জন্য খুবই ক্ষতিকর। তার কর্মকাণ্ড জানতে পেরে রাশিয়ান সরকার তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে। কারণ সে ছিল। রাশিয়ার গোপন শত্রু।

রাষ্ট্রদূত হিসেবে জনাব 'ক'-এর নিয়োগ প্রাপ্তি ইসলামের কোন বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

রাষ্ট্রদূত হিসেবে জনাব 'ক'-এর নিয়োগপ্রাপ্তি ইসলামের অন্যতম মৌলিক বিষয় রিসালাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

'রিসালাত' শব্দের অর্থ বার্তা, চিঠি পৌছানো, পয়গাম, সংবাদ বা কোনো ভালো কাজের দায়িত্ব বহন করা। মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার দায়িত্বকে রিসালাত বলে। মানুষের জ্ঞান সীমাবদ্ধ। এ স্বল্প জ্ঞানের মাধ্যমে তারা আল্লাহ তায়ালার পূর্ণ পরিচয় লাভ করতে পারে না। ন্যায়-অন্যায় বুঝতে পারে না। ফলে তারা নানা ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাই মানুষকে হেদায়েতের জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে পথপ্রদর্শক পাঠিয়েছেন। তাঁরা মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী তুলে ধরেছেন, যা জনাব 'ক'-এর দায়িত্বপ্রাপ্তির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উদ্দীপকে জনাব 'ক' আমেরিকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান। তার দায়িত্ব ছিল আমেরিকায় রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করা, রাশিয়ার স্বার্থ-রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং রাশিয়ান সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তা সঠিকভাবে আমেরিকান সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নবি-রাসুলগণের দায়িত্বপ্রাপ্তির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। মহান আল্লাহ মানুষকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে রিসালাতের দায়িত্ব দিয়ে নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন। তাঁরা মানুষের কাছে আল্লাহর দেওয়া দায়িত্ব পৌছে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যই পথপ্রদর্শক রয়েছে।' (সূরা আর-রাদ, আয়াত ৭) সুতরাং বোঝা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব 'ক'-এর নিয়োগপ্রাপ্তি রিসালাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

নবি-রাসুলগণের দাওয়াতের মূলকথা কী ছিল?

নবি-রাসুলগণের দাওয়াতের মূলকথা ছিল- لا إِلَهَ إِلَّا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।

#

​'আমাকে শাফাআত করার অধিকার দেওয়া হয়েছে'- ব্যাখ্যা করো।

আমাকে শাফাআত করার অধিকার দেওয়া হয়েছে।'- হাদিসটি দ্বারা কিয়ামতের দিন. রাসুল (স.)-এর শাফাআত করার বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে।

'শাফাআত' শব্দের অর্থ সুপারিশ করা, অনুরোধ করা ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় কল্যাণ ও ক্ষমার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট নবি-রাসূল ও নেক বান্দাগণের সুপারিশ করাকে শাফাআত বলে। কিয়ামতের দিন নবি-রাসুল ও নেক বান্দাগণ আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবেন।। আল্লাহ তায়ালা এসব শাফাআত কবুল করবেন এবং বহু মানুষকে জান্নাত দীন করবেন। তবে শাফাআতের সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা থাকবে আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর অধিকারে। তিনি নিজেই বলেছেন-'আমাকে শাফাআত করার অধিকার দেওয়া হয়েছে।' (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

#

"জনাব 'ক' তার কর্মের উপযুক্ত শান্তি পেয়েছেন"- ইসলামের আলোকে প্রমাণ করো।

জনাব 'ক'-এর কর্মকাণ্ডে নিফাক প্রকাশ পাওয়ায় ইসলামের আলোকে তিনি উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছেন।

নিফাক শব্দের অর্থ ভণ্ডামি, কপটতা, দ্বিমুখীভাব, ধোঁকাবাজি, প্রতারণা ইত্যাদি। অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন রেখে মুখে ইসলামকে স্বীকার করাকে নিফাক বলে। নিফাক একটি মারাত্মক পাপ। এর ফলে মানুষ মিথ্যাচারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা নিঃসন্দেহে মিথ্যাবাদী।' (সূরা আল-মুনাফিকুন, আয়াত ০১) মিথ্যার পাশাপাশি মুনাফিকরা অন্যান্য খারাপ ও অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। পার্থিব লোভ-লালসা ও স্বার্থরক্ষায় তারা মানুষের অকল্যাণ করতেও পিছপা হয় না। তারা পরনিন্দা ও পরচর্চা করে। ফলে সমাজের মানুষের কাছে তারা অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়ে জীবন কাটায় ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য মুনাফিকরা খুবই ক্ষতিকর। কারণ তারা মুসলমানদের সাথে মিশে ইসলামের শত্রুদের সাহায্য করে। মুসলমানদের গোপন তথ্য ও দুর্বলতার কথা শত্রুদের আনিয়ে দেয়। যা উদ্দীপকে জনাব 'ক'-এর মাঝে লক্ষ করা যায়।

উদ্দীপকে জানাব 'ক'-কে আমেরিকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার দায়িত্ব ছিল আমেরিকায় রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করা, রাশিয়ার স্বার্থরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং রাশিয়ান সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তা সঠিকভাবে আমেরিকান সরকারের কাছে পৌছে দেওয়া। কিন্তু তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করে মাঝে মাঝে কিছু গোপন তথ্য আমেরিকান বিভিন্ন সংস্থার কাছে প্রকাশ করে দিতেন। তার কর্মকান্ড আনতে পেরে রাশিয়ান সরকার তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে। ইসলামেও এমন মুনাফিকদের অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতির কথা বলা হয়েছে। তাদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে।' (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৪৫)

উপরের আলোচনার আলোকে আমরা বলতে পারি জনাব 'ক' তার কর্মের উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছেন।