• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

নিচের ছকটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও-

কুফর কীভাবে হতাশার সৃষ্টি করে? ব্যাখ্যা করো।

কুফর ধৈর্যহীনতার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করে।

কুফরে লিপ্ত ব্যক্তি তথা কাফির আল্লাহ তায়ালা ও তকদিরে অবিশ্বাস করে। ফলে সে যেকোনো বিপদে-আপদে ধৈর্যহারা হয়ে পড়ে। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে ধৈর্য ধারণ করতে পারে না। অন্যদিকে তকদিরে বিশ্বাস না থাকায় যেকোনো ব্যর্থতায় সে চরম হতাশ হয়ে পড়ে। ফলে তার জীবন চরম হতাশাগ্রস্তভাবে অতিবাহিত হয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

চরম জুলুম কোনটি?

শিরক চরম জুলুম।

#

'গ' চিহ্নিত বিষয়টি শন্যস্ত করে মানবজীবনে এর প্রভাব ব্যাখ্যা করো।

'গ' চিহ্নিত বিষয়টি হলো ইমান, মানবজীবনে যার প্রভাব অনেক বেশি।

ইমান শব্দটি আমনুন মূল ধাতু থেকে নির্গত। যার অর্থ বিশ্বাস করা, আস্থা স্থাপন, স্বীকৃতি দেওয়া, নির্ভর করা ইত্যাদি। ইসলামের মূল বিষয়গুলোর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাসকেই বলা হয় ইমান। 'গ' চিহ্নিত বিষয়টি এ ইমানের প্রতিই ইঙ্গিত করে।

'গ' চিহ্নিত বিষয়টি হলো মুখে স্বীকার, অন্তরে বিশ্বাস, তদনুযায়ী আমল। এখানে ইমানের তিনটি শর্তের কথাই বলা হয়েছে। কারণ কোনো মানুষকে ইমানদার হতে হলে শরিয়তের যাবতীয় বিধি-বিধান অন্তরে বিশ্বাস করতে হবে, মুখে স্বীকার করতে হবে এবং সে অনুযায়ী আমল করতে হবে। এ তিনটির একটিও অনুপস্থিত থাকলে পরিপূর্ণ ইমানদার হওয়া যাবে না। মানবজীবনে ইমানের প্রভাব অপরিসীম। ইমান নানাভাবে মানুষের। মানবিকতার বিকাশ সাধন করে। ইমানের মূল কথা হলো তাওহিদ। আর তাওহিদে বিশ্বাস মানুষকে আত্মমর্যাদাশীল করে তোলে। পৃথিবীর কোনো সৃষ্টির সামনে সে আর মাথা নত করে না। ইমান মানুষকে সত্য ও সুন্দরের পথে পরিচালিত করে। পূর্ণাজা মুমিন কখনোই অন্যায় ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে পারে না। সে সবসময় সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব, সহযোগিতা ইত্যাদি সৎগুণাবলির চর্চা করে। ইমান মানুষকে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির ব্যাপারে সতর্ক করে। মুমিন ব্যক্তি একদিন আল্লাহ তায়ালার সামনে জবাবদিহিতার কথা স্মরণে রাখে। আর আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আর যে ব্যক্তি তার প্রভুর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার ভয় করে এবং নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বিরত থাকে। নিশ্চয়ই জান্নাতই হলো তার বাসস্থান।' (সূরা আন-নাযিআত, আয়াত ৪০-৪১) সুতরাং বলা যায়, 'গ' চিহ্নিত বিষয়টি হলো ইমান, যা মানুষকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করে।

#

'ক' ও 'খ' চিহ্নিত বিষয় দু'টি একে অপরের পরিপূরক- তুমি। কি এ কথার সাথে একমত? বিশ্লেষণ করো।

'ক' ও 'খ' চিহ্নিত বিষয় দু'টি অর্থাৎ ইমান ও ইসলাম একে অপরের পরিপূরক- আমি এ কথার সাথে একমত।

চিত্র 'ক'-এ শান্তির ধর্ম বলতে ইসলামকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারণ ইসলামি বিধি-বিধানই মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতে পরিপূর্ণ শান্তিময় জীবন দান করে। আর চিত্র 'খ'-এ বলা হয়েছে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। এটি হলো ইমানের মূলকথার অংশবিশেষ। ইমান ও ইসলামের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।.

ইমান ও ইসলামের ক্ষেত্রে একটিকে রেখে অন্যটি কল্পনাও করা যায় না। এদের একটি অপরটির ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। ইমান ও ইসলামের সম্পর্ক গাছের মূল ও শাখা-প্রশাখার মতো। ইমান হলো গাছের শিকড় বা মূল আর ইসলাম তার শাখা-প্রশাখা। মূল না থাকলে শাখা-প্রশাখা হয় না। আর শাখা-প্রশাখা না থাকলে মূল বা শিকড় মূল্যহীন। তেমনি ইমান ও ইসলাম একটি অন্যটি ছাড়া পূর্ণাঙ্গ হয় না। ইমান মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, অনুরাগ ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের বাসনা সৃষ্টি করে। আর তাতে ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে ইসলাম সজীব ও সতেজ হয়ে পরিপূর্ণ সৌন্দর্যে বিকশিত হয়। ইসলাম হলো ইমানের বহিঃপ্রকাশ। ইমান হলো অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত। আর ইসলাম বাহ্যিক আচার-আচরণ ও কার্যাবলির সাথে সম্পৃক্ত। যেমন- আল্লাহ, রাসুল, ফেরেশতা ইত্যাদি বিষয়ে বিশ্বাস করা হলো ইমান। আর সালাত, যাকাত, হজ ইত্যাদি বিষয় পালন করা হলো ইসলাম।

প্রকৃতপক্ষে, ইমান ও ইসলাম একটি অপরটির পরিপূরক। দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে হলে ইমান ও ইসলাম উভয়টিকেই পরিপূর্ণভাবে স্বীয় জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।