- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
প্রেক্ষাপট- ১ : পৃথিবীতে অনেক রাষ্ট্রে দেখা যায়, অনেক মানুষ মহানবি (স.)-কে নিয়ে কাল্পনিক ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে এবং আল-কুরআনে অনেক ভুল-ভ্রান্তি আছে বলেও মত প্রকাশ করে।
প্রেক্ষাপট- ২ : জনাব জেড নিজেকে একজন মুসলিম হিসেবে দাবি করেন। তিনি এর পাশাপাশি হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র এবং হযরত মরিয়ম (আ.)-কে আল্লাহর স্ত্রী বলে বিশ্বাস করেন।
প্রেক্ষাপট-১-এর বিষয়টিতে কী প্রকাশ পেয়েছে? বর্ণনা করো।
প্রেক্ষাপট-১ এর বিষয়টিতে কুফর প্রকাশ পেয়েছে।
কুফর শব্দের অর্থ অবাধ্য হওয়া, অবিশ্বাস করা, অস্বীকার করা ইত্যাদি। মূলত আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটির প্রতিও অবিশ্বাস বা অস্বীকার করাকে কুফর বলে। মানুষ নানাভাবে কুফরিতে লিপ্ত হতে পারে। যেমন- আল্লাহর অস্তিত্বে অবিশ্বাস করা, নবি-রাসুল ও আসমানি কিতাব অবিশ্বাস করা ইত্যাদি, যা প্রেক্ষাপট-১ এ প্রকাশ পেয়েছে।
প্রেক্ষাপট-১ এ দেখা যায়, পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্র রয়েছে, যেখানে মহানবি (স.) কে নিয়ে কাল্পনিক ব্যজাচিত্র প্রকাশ করে এবং আল-কুরআনে অনেক ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে বলেও উল্লেখ করে। এখানে মূলত কুফরের বর্ণনা প্রকাশ পেয়েছে। উত্ত রাষ্ট্রসমূহ যদি কুফরি না করে ইমান আনতো, তাহলে নবি এবং আসমানি কিতাবের প্রতি অবিশ্বাস করতো না। মহানবি (স.) কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ এবং আল-কুরআনের ভুল-ভ্রান্তি খোঁজা মূলত নবি-রাসুল ও আসমানি কিতাবের প্রতি অবিশ্বাস করারই শামিল। তাই বলা যায়, প্রেক্ষাপট-১ এ নির্দেশিত বিষয়টি হলো কুফর।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'শিরক' কী?
মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা বা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়।
হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর পূর্বযুগকে 'আইয়ামে জাহিলিয়া' বলা হয় কেন?
হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর পূর্ব যুগে আরব সমাজের লোকদের আচরণ ও চালচলন বর্বর ও মানবতাবিরোধী ছিল বিধায় সে যুগকে আইয়ামে জাহিলিয়া বলা হয়।
আরবি শব্দ আইয়াম অর্থ যুগ বা সময় এবং জাহিলিয়া অর্থ অজ্ঞতা বা মূর্খতা। সুতরাং 'আইয়ামে জাহিলিয়া'-এর শাব্দিক অর্থ অজ্ঞতার যুগ। মহানবি (স.)-এর আবির্ভাবের আগে আরব সমাজের লোকেরা নবি ও রাসুলদের আদর্শ ও শিক্ষা ভুলে গিয়েছিল। ফলে তারা বিভিন্ন অনাচারে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। যেমন- খুন-খারাবি, ডাকাতি, নবজাতক কন্যা সন্তান হত্যা, জুয়াখেলা ইত্যাদি। সমাজে কোনো আইন-শৃঙ্খলা ছিল না। আরব সমাজের এরূপ বিশৃঙ্খল অবস্থার কারণে সে সময়কে আইয়ামে জাহিলিয়া বা অজ্ঞতার যুগ বলা হয়।
প্রেক্ষাপট-২-এ জনাব জেড-এর বিশ্বাসটি চিহ্নিতপূর্বক ইসলামের দৃষ্টিতে এর কুফল ও পরিণতি ব্যাখ্যা করো।
জনাব জেড এর মনোভাব কুফরের অন্তর্ভুক্ত, যার ইহকালীন ও পরকালীন পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
কুফর শব্দের অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, গোপন করা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটিরও প্রতি অবিশ্বাস করাকে কুফর বলে। কুফর হলো ইমানের বিপরীত, যা জনাব জেড এর মনোভাবেও পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের জনাব জেড ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহে বিশ্বাস করে না। এমনকি এ বিষয়গুলোর ব্যাপারে সে সন্দেহও প্রকাশ করে। তার এ মনোভাবটি কুফরের নামান্তর। কুফরের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কুফর ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবনে অনৈতিকতার ব্যাপক প্রসার ঘটায়। আখিরাতে বিশ্বাস না থাকায় কুফরে লিপ্ত ব্যক্তির নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটে এবং দুনিয়ার স্বার্থে সে নানা ধরনের পাপ ও অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। ফলে সে সবকিছুতে ধৈর্যহারা ও হতাশাগ্রস্ত হয়। তাছাড়া পরকালেও কুফরের পরিণতি হবে জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যারা কুফরি করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী'। (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৩৯)
পরিশেষে বলা যায়, কুফরের পরিণতি ধ্বংস ছাড়া কিছুই না। এটি থেকে সবাইকে বেঁচে থাকতে হবে।

