- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বাবুল মিয়া ইসলামের বিধি-বিধান পালন করে না। সে মনে করে এসব নিরর্থক, এগুলোর মোটেও প্রয়োজন নেই। এমনকি সম্প্রতি যে গলায় একটি চেইনে বিধর্মীদের ক্রুশচিহ্ন ব্যবহার করে। অন্যদিকে মকবুল জোরপূর্বক ক্ষমতার বলে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে থাকে। এলাকার মুরব্বি নাসিম মিয়া বলেন, 'একদিন এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। সকলকে আল্লাহর সামনে হাজির হয়ে দুনিয়ার সব কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে।'
নাসিম মিয়ার বক্তব্যের যথার্থতা নিরূপণ করে মকবুল মিয়ার কাজের পরিণতি বিশ্লেষণ করো।
নাসিম মিয়ার বক্তব্য সঠিক আর মকবুল মিয়ার কাজ তার জন্য মন্দ পরিণাম বয়ে আনবে।
আমাদের সবাইকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। এমনকি একদিন পৃথিবীও ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। কিন্তু এতেই সবকিছুই শেষ হয়ে যাবে না। কারণ আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে পুনরায় জীবিত করবেন এবং দুনিয়ার কাজকর্মের হিসাব নেবেন। এখানেই নির্ধারিত হবে চির শান্তির স্থান জান্নাত কিংবা চরম শাস্তির স্থান জাহান্নাম। উদ্দীপকের নাসিম মিয়ার বক্তব্যেও পরকালীন জীবনের ইঙ্গিত লক্ষণীয়।
উদ্দীপকের মকবুল জোরপূর্বক ক্ষমতার বলে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে। এ ব্যাপারে এলাকার মুরব্বি নাসিম মিয়া বলেন, 'একদিন এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। সবাইকে আল্লাহর সামনে হাজির হয়ে দুনিয়ার সকল কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে।' তার এ বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে সঠিক। কেননা হাশরের ময়দানে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে সকল মানুষ ও প্রাণিকুল মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হবে। হাশরের ময়দান হলো হিসাব নিকাশের দিন। এ দিন আল্লাহ তায়ালা হবেন একমাত্র বিচারক। তিনি মানুষের সব কাজকর্মের হিসাব নেবেন। তারপর আমল অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারণ করবেন। এক্ষেত্রে কেউ যদি বিচারদিবসের কথা ভুলে গিয়ে নিজের খেয়াল খুশিমতো অন্যায় কাজে লিপ্ত থাকে তবে তাকে পরকালে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "অনন্তর যে সীমালঙ্ঘন করে এবং দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয় জাহান্নামই হবে তার আবাস।" (সূরা আন-নাযিআত, আয়াত ৩৭-৩৯)
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, মকবুল মিয়ার অনৈতিক কাজের কঠিন পরিণতির প্রতি ইঙ্গিত করে নাসিম মিয়ার বক্তব্য যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

