• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

লিমন লিটনকে বলে দুনিয়ার জীবনই শেষ নয়, মৃত্যুর পর আমাদের আরও একটি জীবন রয়েছে। সেখানে সবাইকে দুনিয়ার সব কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে। অপরদিকে লিটন আল্লাহর ওপর বিশ্বাস করলেও সে মনে করে মানবজাতির পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তায়ালা কিয়ামত পর্যন্ত পুস্তিকাসহ অনেক মহাপুরুষ প্রেরণ করবেন।

লিটনের বিশ্বাসে ইমানের কোন বিষয়টির অভাব পরিলক্ষিত হয়? চিহ্নিত করে বিশ্লেষণ করো।

লিটনের বিশ্বাসে খতমে নবুয়তের প্রতি অবিশ্বাস পরিলক্ষিত হয়।

খতমে নবুয়তের অর্থ হলো নবুয়তের সমাপ্তি। আর যার মাধ্যমে নবুয়তের ধারার সমাপ্তি ঘটেছে তিনি হলেন খাতামুন নাবিয়ান বা সর্বশেষ নবি। হযরত মুহম্মদ (স.) হলেন সর্বশেষ নবি। তাঁর মাধ্যমে দীনের পূর্ণতা ঘোষিত হয়েছে। নবুয়তের ধারাও বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু লিটনের কথায় এ ধারণার প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে।

লিটন মনে করে, মানবজাতির পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তায়ালা কিয়ামত পর্যন্ত পুস্তিকাসহ মহাপুরুষ পাঠাবেন। তার এ ধারণা অযৌক্তিক। কারণ মহানবি (স.) বলেন, 'আমিই শেষ নবি। আমার পরে আর কোনো নবি নেই।' (সহিহ মুসলিম) মহান আল্লাহ এ সম্পর্কে বলেন, 'মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন; তিনি আল্লাহ রাসুল এবং শেষ নবি।' (সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৪০) আল্লাহ ও রাসুল (স.)-এর এ বাণী মেনে নেওয়াই হলো খতমে নবুয়তের ওপর বিশ্বাস। এ বিশ্বাস স্থাপনের সাথে সাথে মহানবি (স.)-এর ওপর অবতীর্ণ গ্রন্থ বা কুরআনকেই সর্বশেষ আসমানি কিতাব হিসেবে মেনে নিতে হবে। কারণ কুরআনে যেসব বিধান বর্ণিত হয়েছে তা মানবজাতির জন্য যথেষ্ট। তাই পৃথিবীতে আর কোনো মহাপুরুষ বা মহাগ্রন্থ আসবে না।

উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, মহানবি (স.) খাতামুন নাবিয়্যিন তথা শেষ নবি, আর তাঁর ওপর অবতীর্ণ আল-কুরআন একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব। কিন্তু লিটন এগুলো স্বীকার করে না। অর্থাৎ তার মধ্যে খতমে নবুয়তের প্রতি অবিশ্বাস রয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

সিরাত কী?

সিরাত হলো হাশরের ময়দান থেকে জান্নাত পর্যন্ত জাহান্নামের ওপর দিয়ে চলমান একটি উড়াল সেতু।

#

'উত্তম গুণাবলির পরিপূর্ণতা দানের জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি'-ব্যাখ্যা করো।

উন্নত চরিত্রকে পূর্ণতা দানের জন্য শেষ নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে আল্লাহ তায়ালা পাঠিয়েছেন।

চরিত্রের মাধ্যমেই মানুষ পূর্ণমাত্রায় মনুষ্যত্বের স্তরে উপনীত হয়। এ জন্য সব নবিই নিজ নিজ জাতিকে উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছেন। আর মহানবি (স.) উত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দিয়েছেন। তিনি নিজের জীবনে পরিপূর্ণভাবে সঞ্চুরিত্রের অনুশীলন করেছেন। পাশাপাশি উম্মতদের সব সময় সৎচরিত্রের অনুশীলন করার তাগিদ দিয়েছেন। রাসুল (স.) এমন আদর্শ স্থাপন করেছেন যার মাধ্যমে মানবজাতি পরিপূর্ণভাবে উত্তম চরিত্রের ধারক হতে পারে। আলোচ্য হাদিসটিতে একথাই বলা হয়েছে।

#

লিমনের কর্মকাণ্ডে পরকালীন জীবনের কোন স্তরটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

লিমনের কর্মকাণ্ডে পরকালীন জীবনের চার নম্বর স্তর হাশরের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

হাশর শব্দের অর্থ মহাসমাবেশ। এটি পরকালীন জীবনের চতুর্থ স্তর। সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব মানুষকে এ স্তরের মুখোমুখি হতে হবে। লিমনের বক্তব্যে এ বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।

লিমন বলেছে, দুনিয়ার জীবনই শেষ নয়, মৃত্যুর পর আমাদের আরও একটি জীবন রয়েছে। সেখানে সবাইকে দুনিয়ার সব কাজের হিসাব দিতে হবে। এই জীবনই হলো হাশরের জীবন। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনায় সব মানুষ ও প্রাণিকুল মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হবে। সবাই সেদিন একজন আহ্বানকারী ফেরেশতার ডাকে হাশরের ময়দানে সমবেত হবে। মানুষের এই মহাসমাবেশকেই হাশর বলা হয়। হাশরের ময়দান হলো হিসাব-নিকাশের দিন, জবাবদিহিতার দিন। এদিন সব মানুষের সমস্ত কাজকর্মের হিসাব নেওয়া হবে। আল্লাহ তায়ালা হবেন একমাত্র বিচারক। আল্লাহ বলেন, 'তিনি (আল্লাহ) বিচার দিবসের মালিক।' (সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত ৩) সুতরাং দেখা যায়, লিমন আখিরাতের অন্যতম স্তর হাশরের প্রতিই ইঙ্গিত করেছে।