- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জমির উদ্দিনের একমাত্র সন্তান লাবিদ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে তিনি তার পিরের নামে একটি ছাগল জবাই করেন এবং সন্তানের সুস্থতার জন্য ঐ পিরের কাছে প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে জমির উদ্দিনের। ব্যবসায়ী বন্ধু আরিফের কাছ থেকে তার এক প্রতিবেশী সাঈদ পাঁচ হাজার। টাকা দুই মাস পর ফেরত দেওয়ার শর্তে ঋণ নেয়। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দুই মাস পর ফেরত না দিলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। বিষয়টি সমাধান করে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, 'আমাদের সবারই কথা ও কাজে। মিল রাখা উচিত।'
তকদিরের প্রতি বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন কেন?
তকদিরে বিশ্বাস ইমানের মৌলিক সাতটি বিষয়ের একটি হওয়ায় এর প্রতি বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন।
তকদির শব্দের অর্থ নির্ধারিত পরিমাণ, ভাগ্য বা নিয়তি। মানুষের ভাগ্যের একমাত্র নির্ধারক মহান আল্লাহ। ভালো-মন্দ সবকিছু তাঁর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়। মানুষ তার কর্মগুণে সাফল্য লাভ করতে পারে। তবে তা মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া সম্ভব নয়। মানুষের জীবনের সাফল্য, ব্যর্থত বিপদ-মুসিবত সবকিছুর নিয়ন্ত্রক আল্লাহ তায়ালা। তকদিরে বিশ্বাস ছাড়া মুমিন হওয়া সম্ভব নয়। তাই তকদিরে বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
বারযাখ কাকে বলে?
মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত সময়কে বারযাখ বা কবরের জীবন বলে।
জমির উদ্দিনের কর্মকাণ্ডে কী ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
জমির উদ্দিনে কর্মকাণ্ডে শিরক ফুটে উঠেছে।
শিরক শব্দের অর্থ হলো অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাদে বিশ্বাস করা। মূলত আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক কর কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। জমির উদ্দিনের কর্মকাণ্ডে অনুরূপ দৃষ্টান্তই দেখা যায়।
জমির উদ্দিনের একমাত্র সন্তান লাবিদ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে তিনি তার পিরের নামে একটি ছাগল জবাই করেন এবং সন্তানের সুস্থতার জন্য ঐ পিরের কাছে প্রার্থনা করেন। ইসলামের দৃষ্টিতে তার এ কাজটি শিরকে অন্তর্ভুক্ত। কারণ অসুস্থতা থেকে সুস্থতা দানের একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ। এ ক্ষেত্রে পিরের সুস্থতা দানের কোনো ক্ষমতা নেই। তাই পিরের কাছে সুস্থতা প্রার্থনা করার অর্থ হলো তাকে মহান আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা, যা সুস্পষ্টভাবে শিরকের পর্যায়ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা নিজেই শিরকের ধারণা খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেন, 'বলুন (হে নবি) তিনি আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। (সূরা আল-ইখলাস, আয়াত ১) অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।' (সূরা আশ-শুরা, আয়াত ১১) এ থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর সাথে আর কাউকে শরিক করা ইসলাম সমর্থন করে না। কিন্তু জমির উদ্দিন পিরের নামে ছাগল জবাই করে সন্তানের সুস্থতা কামনা করে আল্লাহকে একমাত্র সত্তা হিসেবে মেনে নেওয়ার ধারণা থেকে বিচ্যুত হয়েছেন, যা শিরকের সমতুল্য।
সাঈদের চরিত্রে যে বিষয় প্রকাশ পেয়েছে তা চিহ্নিতপূর্বক। ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির বক্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
সাঈদের চরিত্রে মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির বক্তব্যটি যথার্থ।
সাধারণভাবে যারা অন্তরে একরকম ভাব রেখে বাইরে তার বিপরীত অবস্থা প্রকাশ করে তাদের মুনাফিক বলা হয়'। রাসুল (স.) মুনাফিকের তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি। যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে, আর যখন কোনো কিছু তার কাছে আমানত রাখা হয় তার খিয়ানত করে'। (সহিহ বুখারি) সাঈদের চরিত্রে ওয়াদা ভঙ্গের বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়।
সাঈদ দুই মাস পর ফেরত দেওয়ার ওয়াদা করে ব্যবসায়ী আরিফের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ঋণ নেয়। কিন্তু সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দুই মাস অতিক্রম হলেও সে টাকা ফেরত দেয়নি। এভাবে কথা দিয়ে না রাখা, ওয়াদা ভঙ্গ করা মুনাফিকের কাজ। এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, আমাদের সবারই কথা ও কাজে, মিল রাখা উচিত। তার এ বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে সঠিক। কারণ মুনাফিকি অত্যন্ত জঘন্য পাপ। এটি মানুষের চরিত্র ও নৈতিকতা ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে মানুষ মিথ্যাচারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। মুনাফিকদের কেউ বিশ্বাস করে না। তাদের সন্দেহ ও ঘৃণার চোখে দেখে, সমাজের মানুষের কাছে তারা অপমানিত ও লাঞ্চিত হয়ে জীবন কাটায়। তাদের পরকালীন পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে। (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৪৫)
উপরের আলোচনায় প্রমাণিত যে, সাঈদ ওয়াদা ভঙ্গ করে মুনাফিকের বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করেছে, যা দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। তাই তার উচিত সর্বদা ওয়াদা রক্ষা করা তথা কথা ও কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।

