- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আফ্রিকা ভ্রমণে নিজাম বেশ কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর সাক্ষাতে। জানেন যে, তারা এক সময় ছিল বর্বর, সৃষ্টিকর্তার কোনো বিধান মানত না। পরে কিছু লোক এসে তাদেরকে ঐশ্বরিক বিধানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। ফলে তারা বর্বর থেকে হয়ে ওঠে সভ্য। তিনি সালাহ নামে। একজনের সাক্ষাতকার নেন। সালাহ বলেন, আজকের লোকেরা আবার সৃষ্টিকর্তার বিধান ভুলে যেতে বসেছে, যার ফলে চারদিকে এত অন্যায়। আমি মনে করি, এদের সংশোধনের জন্য তাদের মতো লোক আসাটা খুবই জরুরি।
তুমি কি সালাহর মনোভাবের সাথে একমত? কুরআন-হাদিসের আলোকে যুক্তি দাও।
খতমে নবুয়তের প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশিত হওয়ায় সালাহর মনোভাবের সাথে আমি একমত নই।
হযরত মুহাম্মদ (স.) সর্বশেষ নবি। তাঁর পরে আর কোনো নবি বা রাসুল আসবেন না। কারণ তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহ নবুয়তের পূর্ণতা ঘোষণা করেছেন। সালাহর মনোভাবে খতমে নবুয়ত বিষয়ক এ ধারণার প্রতি অবিশ্বাস লক্ষণীয়।
সালাহ মনে করে, বর্তমানে যারা অন্যায় কাজে লিপ্ত তাদের সংশোধনের জন্য নবি-রাসুল আসা জরুরি। অথচ আমরা জানি, নবি করিম (স.) সারা বিশ্বের, সব যুগের, সব মানুষের নবি। কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্বে যত মানুষ আসবে তাদের সবার নবি তিনি। সব মানুষের হেদায়েতের জন্য তাঁর শিক্ষা, আদর্শ ও তাঁর ওপর নাজিল করা কিতাবই যথেষ্ট। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'হে নবি। আপনি বলুন হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের সকলের জন্যই আল্লাহর রাসুল হিসেবে প্রেরিত।' (সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৫৮) হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে নবি-রাসুল আগমনের ধারা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই নবি (স.)-এর পরে কোনো নবি-রাসুল আগমনের কোনো সুযোগও নেই। এ সম্পর্কে রাসুল (স.) বলেন, 'আমিই শেষ নবি। আমার পরে কোনো নবি নেই।' (সহিহ মুসলিম)
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে শেষ নবি হিসেবে মেনে নেওয়া অবশ্য কর্তব্য। কিন্তু সালাহর মধ্যে এ বিষয়টি অনুপস্থিত। সে আরও নবি আসার প্রয়োজন মনে করে। এরূপ অযৌক্তিক ধারণার কারণে তার মত আমি সমর্থন করি না।

