- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
মারুফদের ঘর মসজিদের পাশেই। একদিন ভোরে মসজিদ থেকে ভেসে আসা আযানের ধ্বনি শুনে সে বিরক্ত হয়। সকাল বেলা তার মায়ের কুরআন তিলাওয়াতেও বিরূপ মন্তব্য করে ঘুমের ব্যাঘাত হওয়ার অজুহাত তুলে। এবার ঈদুল আযহায় মারুফের বাবা 'হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান স্মৃতি স্মরণ করে তার পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর নামে তাদের কুরবানির গরুটা জবাই করেন।
মারুফের বাবার কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তাকে কি একজন মুমিন বলা যায়? যৌক্তিক মতামত দাও।
মারুফের বাবার কর্মকাণ্ড বিবেচনায় তাকে মুমিন বলা যায় না।
যে ব্যক্তি শরিয়তের যাবতীয় বিধি-বিধান অন্তরে বিশ্বাস করে, মুখে স্বীকার করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে তাকে মুমিন বলা হয়। মারুফের বাবার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম লক্ষ করা যায়।
মারুফের বাবা, ইসমাইল (আ.)-এর নামে কুরবানির গরু জবাই করেছে। অথচ ইমানের সাতটি মূল বিষয়ের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয় হলো, আল্লাহ তায়ালার প্রতি বিশ্বাস। এ বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালাকে সমস্ত প্রশংসা ও ইবাদতের একমাত্র মালিক মনে করতে হবে। তাঁর জন্যই সব ইবাদত করতে হবে। কারণ তাঁর সাথে তুলনীয় কেউ নেই। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 'কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।' (সূরা আশ শুরা, আয়াত ১১) কেউ এর ব্যতিক্রম করলে শিরকের গুনাহ হবে। কারণ শিরক চার ধরনের হতে পারে। এর একটি হলো- ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ ছাড়া কারও নামে পশু জবাই করা, আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদাহ করা।
উপরের আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয়, মারুফের বাবা ইমানের সর্বপ্রথম শর্ত না মেনে শিরকের গুনাহ করছেন, আর এ ধরনের মানুষ কখনো মুমিন হতে পারে না।

