- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব 'X' একদিন বন্ধু-বান্ধবদের সাথে বসে টিভিতে বিশাল হাতির পাল দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে বললেন, নিশ্চয়ই এদের লালন-পালন একক স্রষ্টার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য ফেরেশতাদের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে জনাব 'Y' তার ছোট ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বললেন, তুমি যদি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করো, তাহলে তোমাকে একটি দামি ঘড়ি কিনে দেব। সে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে বড় ভাইয়ের কাছে ঘড়ি দাবি করলে তিনি বললেন, এমন কোনো কথা তো তোমার সাথে ছিল না।
জনাব 'X' এর বক্তব্যে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
জনাব 'X' এর বক্তব্যে শিরক প্রকাশ পেয়েছে।
শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। জনাব 'X' এর বক্তব্যে এ বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।
জনাব 'X' টিভিতে বিশাল হাতির পাল দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে বলেন, নিশ্চয়ই এদের লালন-পালন একক স্রষ্টার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য ফেরেশতাদের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। তার এরূপ ধারণা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। কারণ সৃষ্টিজগতের পরিচালনায় কাউকে আল্লাহর অংশীদার বানানো সুস্পষ্টভাবে শিরক। মহান আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি এ মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রক্ষাকর্তা। এ বিশ্বজগৎ পরিচালনায় তাঁর কারও সহযোগিতার প্রয়োজন হয় না। তিনি মহা পরাক্রমশালী। তাই একটি হাতির পাল লালন-পালনে ফেরেশতাদের সহযোগিতার প্রয়োজন মনে করা শিরকের প্রকাশ। কারণ ফেরেশতাগণই মহান আল্লাহর সৃষ্টি। তাঁরা সর্বদা তাঁর ইবাদত পালনে মশগুল থাকেন। আল্লাহ তায়ালা নিজেই বলেছেন, 'কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।' (সূরা আশ-শুরা, আয়াত ১১) তাই বলা যায়, জনাব 'X' 'ফেরেশতাদের আল্লাহর অংশীদার বিবেচনা করে শিরক করেছেন।

