- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব 'ক' একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তিনি অফিসের কাজকর্ম করতে গিয়ে লোকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেন। তার স্ত্রী সাবিহা তাকে এ সমস্ত টাকা নিতে নিষেধ করলে তিনি বলেন, এ টাকা বৈধ। কারণ আমি দ্রুত তাদের কাজ করে দেই। সাবিহার কোনো সন্তান না থাকায় সে মিরপুর মাজারে গিয়ে পির বাবার কাছে সন্তান চাইল। তার স্বামী বলল, 'পির বাবার সন্তান দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তুমিতো আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারতে। আমাদের সবকিছু তাঁর হাতে।'
জনাব 'ক' এর ধারণাটি কীসের শামিল? ব্যাখ্যা করো।
জনাব 'ক' এর ধারণাটি কুফরের শামিল।
কুফর শব্দের অর্থ হলো অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, ঢেকে রাখা, গোপন করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অবাধ্য হওয়া ইত্যাদি। কুফর হলো ইমানের বিপরীত। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোতে বিশ্বাসের নাম ইমান। আর এসব বিষয়ে অবিশ্বাস করা হলো কুফর। জনাব 'ক' এর ধারণাতেও এর বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়।
জনাব 'ক' অফিসের কাজকর্ম করতে গিয়ে লোকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেন এবং এ টাকা নেয়াকে তিনি বৈধ মনে করেন। কারণ তার ধারণা টাকার বিনিময়ে তিনি তাদের দ্রুত কাজ করে দেন। তার এ মানসিকতা কুফরের নামান্তর। কেননা আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটির প্রতি অবিশ্বাস করাকে কুফর বলা হয়। যেমন- হারামকে হালাল মনে করা। আমরা জানি, স্বাভাবিক প্রাপ্যের পরও অসদুপায়ে অতিরিক্ত সম্পদ বা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা ঘুষের অন্তর্ভুক্ত। আর ঘুষ ইসলামে সম্পূর্ণরূপে হারাম। জনাব 'ক' এর সততার সাথে অফিসের কাজ করা ছিল তার দায়িত্ব। এজন্য তিনি নির্ধারিত বেতনও পেয়ে থাকেন। তাই দ্রুত কাজ করার বিনিময়ে লোকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা ঘুষের পর্যায়ভুক্ত। সুতরাং বলা যায়, জনাব 'ক' ঘুষের মতো একটি হারাম বিষয়কে হালাল মনে করে কুফরি করেছেন।

