- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
প্রতিদিন বিশটি অংক করেও স্কুলের সেরা ছাত্রী নাসিবা এসএসসি পরীক্ষায় গণিতে এ' পায়নি। ফলে তার মন বেজায় ভার। তার পিতা জনাব হালিম তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, 'বিধির লিখন না যায় খণ্ডন'। জিপিএ-৫ পেয়েছ এজন্য আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করো। অপরদিকে তার ভাই রাদিফ শাহ জালাল (র)-এর মাজারে গিয়ে বলে, 'হে আল্লাহর অলি। আমাকে সরকারি মেডিকেলে চান্স পাইয়ে দাও'। অতঃপর মাজার সংলগ্ন মসজিদে জামায়াতের সাথে আসর নামায আদায় করে। সে মসজিদের ইমামকেও এ বিষয়ে আল্লাহর নিকট দোয়া করার জন্য অনুরোধ করে।
ইমান অর্থ কী?
ইমান অর্থ বিশ্বাস করা।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো অস্বীকারকারী অনৈতিক কাজ সম্পাদনে দ্বিধা করে না'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো অস্বীকারকারী অর্থাৎ কাফির ব্যক্তি সব ধরনের অন্যায় কাজ অনায়াসে করতে পারে।
আখিরাত, জান্নাত ও জাহান্নামে বিশ্বাস না থাকায় কাফির ব্যক্তি নৈতিকতার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে না। তাই দুনিয়ার স্বার্থে সে মিথ্যাচার, চুরি, ছিনতাই, ব্যভিচার ইত্যাদি যেকোনো পাপকাজ বিনা দ্বিধায় করতে পারে। নবি-রাসুলগণকে বিশ্বাস না করায় তাদের নৈতিক চরিত্র এবং শিক্ষাও সে অনুসরণ করে না। এভাবে কাফির ব্যক্তি সব ধরনের অনৈতিক কাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।
জনাব হালিমের সান্ত্বনার বাণীতে ইমানের কোন বিষয়টি প্রকাশ পায়? ব্যাখ্যা করো।
জনাব হালিমের সান্ত্বনার বাণীতে ইমানের অন্যতম বিষয় তকদিরের প্রতি বিশ্বাস প্রকাশ পায়।
তকদির অর্থ হলো নির্ধারিত পরিমাণ, ভাগ্য বা নিয়তি। আল্লাহ তায়ালা মানুষের তকদিরের নিয়ন্ত্রক। তিনিই মানুষের জীবনের ভালোমন্দের নির্ধারণকারী। সবক্ষেত্রে এমন বিশ্বাস স্থাপন করাই হলো তকদিরে বিশ্বাস। জনাব হালিমের সান্ত্বনার বাণীতে এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।
জনাব হালিমের মেয়ে গণিতে এ+ পায়নি বলে খুব মন খারাপ করেছে। জনাব হালিম মেয়ের এ অবস্থা দেখে মেয়েকে জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের পরামর্শ দেন। কারণ তার মতে, বিধির লিখন খণ্ডন করা যায় না। এ বিষয়টি তকদিরে বিশ্বাসকেই ধারণ করে। কারণ মানুষ যা চায় তা-ই সে করতে পারবে না। বরং মানুষ শুধু তার কাজের জন্য চেষ্টা বা সাধনা করবে। এরপর ফলাফলের জন্য আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করবে। যদি চেষ্টা করার পরও কোনো কিছু না পায় তবে হতাশ হওয়া যাবে না, বরং সবর করবে এবং শোকর আদায় করবে। কারণ তকদিরের শুভ-অশুভ নির্ধারণ করেন স্বয়ং আল্লাহ। মনের মধ্যে এমন ধারণা পোষণ করা এবং সবক্ষেত্রে মেনে চলাই হলো তকদিরের বিশ্বাস। জনাব হালিম মেয়েকে সান্ত্বনা দেওয়ার মাধ্যমে ইমানের এ গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাসটিই প্রকাশ করেছেন।
রাদিফের কর্মকাণ্ড আকাইদের আলোকে চিহ্নিতপূর্বক এর যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
আকাইদের আলোকে রাদিফের কর্মকাণ্ড শিরকের পর্যায়ভুক্ত, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
শিরক শব্দের অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায় মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। রাদিফের কাজে এ বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
রাদিফ শাহ জালাল (র)-এর মাজারে গিয়ে মেডিকেলে চান্স পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রার্থনা জানায়। তার এ কাজটি জঘন্য পাপকাজ শিরককে ধারণ করে। কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে শরিক করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আর শিরক হলো পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে সবচেয়ে বড়। মানুষ শিরকের পর্যায়ভুক্ত যেসব কাজ করে তা সম্পূর্ণ অর্থহীন। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন, 'কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।' (সূরা আশ্-শুরা, আয়াত ১১) অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যদি সেথায় (আসমান ও জমিনে) আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ থাকত তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।' (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ২২) মহান আল্লাহ যেসব ক্ষমতার অধিকারী, তার পরিবর্তে সেসব কাজ করার ইখতিয়ার কারও নেই। এ হিসেবে সরকারি মেডিকেলে চান্স পাইয়ে দেওয়া একমাত্র আল্লাহর পক্ষেই সম্ভব। কোনো মৃত অলির পক্ষে সম্ভব নয়।
উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে, রাদিফের কাজটি এক ধরনের শিরক। আর ইসলামি শরিয়তে এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

