- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আকাম ও মাহমুদ দুই বন্ধু। আকান ইচ্ছাকৃতভাবে অমুসলমানদের অনুকরণ করেন এবং তাদের ধর্মীয় চিহ্ন ব্যবহার করেন। অন্যদিকে মাহমুদ আল্লাহ তায়ালার পাশাপাশি বিত্তবানদেরকে রিজিকদাতা মনে করেন এবং ফেরেশতাদের জগৎ পরিচালনাকারী হিসেবে মনে করেন।
আকাম সাহেবের কর্মকাণ্ড কীসের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।
আকাম সাহেবের কর্মকাণ্ড কুফরের অন্তর্ভুক্ত।'
কুফর শব্দের অর্থ- অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর ইত্যাদি। আল্লাহ তায়ালার মনোনীত দ্বীন ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর কোনো একটির প্রতি অবিশ্বাস করাকেই কুফর বলা হয়। এ ধরনের কাজের মধ্যে রয়েছে- আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব ও গুণাবলিকে অবিশ্বাস বা অস্বীকার করা, ইমানের সাতটি বিষয়কে অস্বীকার করা, ইসলামের মৌলিক ইবাদতকে অস্বীকার করা, হালালকে হারাম বা হারামকে হালাল মনে করা, ইচ্ছাকৃতভাবে কাফিরদের অনুকরণ করা, ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা প্রভৃতি। এর মধ্যে আকাম সাহেবের কর্মকাণ্ডে অমুসলমানদের অনুকরণের দৃষ্টান্ত লক্ষণীয়।
আকাম সাহেব ইচ্ছাকৃতভাবে অমুসলমানদের অনুকরণ করেন এবং তাদের ধর্মীয় চিহ্ন ব্যবহার করেন। এগুলো ইসলামকে অগ্রাহ্য করার সমতুল্য। ইসলামে অন্য ধর্মের চিহ্ন অনুসরণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যারা ইসলামের এ নির্দেশ অমান্য করে তারা কাফির হিসেবে পরিগণিত এবং তাদের এ কাজ কুফরের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং বলা যায়, আকাম সাহেবের কালে কুফরের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'কুফর' শব্দের অর্থ কী?
'কুফর' শব্দের অর্থ অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা, ঢেকে রাখা, গোপন করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, অবাধ্য হওয়া প্রভৃতি।
'কুফর মানবসমাজে অনৈতিকতার প্রসার ঘটায়'- ব্যাখ্যা করো।
কুফরে লিপ্ত ব্যক্তি ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধানের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করে। তাই সে নিজেকে যেকোনো অনৈতিক ও পাপকাজে জড়িয়ে ফেলে।
কাফির বা কুফরে লিপ্ত ব্যক্তি পরকাল, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদিতে বিশ্বাস করে না। তাই সে নৈতিকতার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে না। এর ফলে সে নিজের স্বার্থে মিথ্যাচার, অনাচার, ব্যভিচার, প্রতারণা, ধোঁকাবালি ইত্যাদি যে কোনো পাপ ও অনৈতিক কাজ সহজে এবং বিনা দ্বিধায় করতে পারে। এভাবে কুফরের মাধ্যমে সমাজে অনৈতিকতার প্রসার ঘটে।
মাহমুদ সাহেবের বিশ্বাসের পরিণতি কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
মাহমুদ সাহেবের বিশ্বাসে জঘন্য অপরাধ শিরকের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এর পরিণতি হিসেবে মহান আল্লাহ কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন।
আল্লাহ তায়ালা এ বিশ্বজগতের একমাত্র অধিপতি ও মালিক। তিনি একক ও অদ্বিতীয় সত্তা। তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি অনন্য ও অতুলনীয়। আর এ বিশ্বাসটিকে অস্বীকার করে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করলে কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করলে সেটি হয় শিরক। শিরককারীর জন্য আল্লাহ তায়ালা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন।
মাহমুদ সাহেব মনে করেন, আল্লাহর পাশাপাশি বিত্তবানরাও মানুষের রিজিকদাতা, আবার এ বিশ্ব পরিচালনায় তিনি ফেরেশতাদের কর্তৃত্বকে স্বীকার করেছেন। তার এ দুটি বিশ্বাসই আল্লাহর সাথে অংশীদার করা তথা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। শিরক আল্লাহর সাথে চরম জুলুম করার নামান্তর। আল্লাহ তায়ালা নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন- 'নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম।' (সূরা লুকমান, আয়াত ৪) আল্লাহ তায়ালা শিরককারীদের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি অপার ক্ষমাশীল ও অসীম দয়াময় হওয়া সত্ত্বেও শিরকের অপরাধ ক্ষমা করেন না। মহান আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না'। এতদ্ব্যতীত যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।' (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪৮)
প্রকৃতপক্ষে শিরক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। আল্লাহ তায়ালা নিজেই শিরকের অপরাধ ক্ষমা না করার এবং তাদের জন্য জান্নাত হারাম করার ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহর এ ঘোষণা মাহমুদ সাহেবের বিশ্বাসকে ভয়াবহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে প্রমাণ করে। আল্লাহ তায়ালা শিরককারীর ভয়াবহ পরিণতির কথা ঘোষণা করে বলেছেন- 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম।' (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৭২)

