- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব মাসুদ সাহেব মনে করেন, তকদির বলতে কিছু নেই। মানুষই মানুষের তকদিরের নিয়ন্ত্রক। কর্মই মানুষের তকদির ভালো করবে। মাসুদ সাহেবের এসব কথা শুনে মসজিদের ইমাম সাহেব বলেন, একজন মুসলিমের জন্য কতগুলো মৌলিক বিষয়ে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা ফরজ।
ইমানের বহিঃপ্রকাশ কী?
ইমানের বহিঃপ্রকাশ হলো ইসলাম।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
ইমান ও ইসলামের সম্পর্ক লেখো।
ইমান ও ইসলামের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।
ইমান মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, অনুরাগ ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের বাসনা সৃষ্টি করে। আর তাতে ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে ইসলাম সজীব ও সতেজ হয়ে পরিপূর্ণ সৌন্দর্যে বিকশিত হয়। ইসলাম হলো ইমানের বহিঃপ্রকাশ। অন্তরের ইমানি চেতনা ইসলামের মাধ্যমে প্রকাশ লাভকরে মানুষকে কল্যাণের 'পথে পরিচালিত করে। তাই বলা যায়, ইমান ও ইসলাম একটি অপরটির পরিপূরক।
জনাব মাসুদ সাহেবের মধ্যে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টির অপূর্ণতা রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
জনাব মাসুদ সাহেবের মধ্যে ইমানের অপূর্ণতা রয়েছে।
ইমান অর্থ বিশ্বাস। একজন মুসলিমকে ইমানের কতগুলো মৌলিক বিষয়ে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হয়। এগুলো আল-কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে অকাট্যভাবে প্রমাণিত। এগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটিরও প্রতি সামান্য অস্বীকৃতি থাকলেও পরিপূর্ণ মুসলমান হওয়া যায় না। জনাব মাসুদ এ বিষয়গুলোর মধ্যে তকদিরকে অবিশ্বাস করেছেন।
জনাব মাসুদ মনে করেন, তকদির বলতে কিছু নেই। মানুষই মানুষের তকদিরের নিয়ন্ত্রক। কর্মই মানুষের তকদির ভালো করে। অথচ আমরা জানি, ইমানের একটি মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তকদিরে বিশ্বাস। এ বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালা মানুষের তকদিরের নিয়ন্ত্রক। তিনিই মানুষের ভালোমন্দ নির্ধারণকারী। মহান আল্লাহ বলেন, 'তিনি সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাদের, ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন।' (সূরা ফুরকান, আয়াত ২) মানুষ যা চায় তাই সে করতে পারে না। বরং মানুষ তার কাজের জন্য চেষ্টা ও সাধনা করবে। এরপর ফলাফলের জন্য আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করবে। যদি চেষ্টা করেও ভালো ফল না পাওয়া যায় তবে ধৈর্য ধরবে। আর ভালো ফল পেলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। এ ধারণার বিপরীত মানসিকতা ইমানের পরিপন্থি। সুতরাং বলা যায়, জনাব মাসুদ সাহেবের মধ্যে ইমানের অপূর্ণতা রয়েছে।
উদ্দীপকের ইমাম সাহেব কয়টি বিষয়ের কথা বলেছেন? বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকের ইমাম সাহেব সাতটি বিষয়ের কথা বলেছেন।
ইমান 'হলো বিশ্বাস। ইসলামে প্রবেশ করতে হলে একজন মুসলিমকে কিছু মৌলিক বিষয় মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতে হয়। এ বিশ্বাস ছাড়া কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারে না। এরূপ বিষয় মোট ৭টি। ইমাম সাহেব এ সাতটি বিষয়ের কথা বলেছেন। ইমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয় হলো আল্লাহ তায়ালার প্রতি বিশ্বাস। এ বিশ্বাস অনুযায়ী মহান আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় সকল গুণের আধার হিসেবে মেনে নিতে হবে। তাঁর সত্তা ও গুণাবলিকে তুলনাহীন মনে করে একমাত্র তারই প্রশংসা ও ইবাদত করতে হবে। ইমানে দ্বিতীয় বিশ্বাস হলো-ফেরেশতাগণ আল্লাহ তায়ালার হুকুম পালনে নিয়োজিত। এ সম্পর্কিত কুরআন-হাদিসে বর্ণিত সকল তথ্য বিশ্বাস করতে হবে। আসমানি কিতাবসমূহের ওপর বিশ্বাস স্থাপন ইমানের তৃতীয় বিষয়। এ বিশ্বাস অনুযায়ী এ কিতাবসমূহের সংখ্যা, নাজিলের সময়, বর্ণিত বিষয় ইত্যাদির ওপর পরিপূর্ণ আস্থা স্থাপন করতে হবে।
ইমান পূর্ণাজা করার জন্য চতুর্থ বিষয় হিসেবে নবি-রাসুলগণের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। সকল সৃষ্টির মধ্যে তারাই সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তাদের মাধ্যমেই আল্লাহ মানুষকে মুক্তির পথনির্দেশনা দিয়েছেন। তাদের সম্পর্কে এই সত্য মনে-প্রাণে আকড়ে ধরতে হবে। ইমানের পণ্যম বিষয় হলো আখিরাত। এটি মৃত্যুর পরবর্তী জীবন। এ জীবনের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। এখানে মানুষকে দুনিয়ার কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে। এরপর বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে পুরস্কার বা শাস্তি বরণ করতে হবে। এছাড়া তকদিরে বিশ্বাস ইমানের ষষ্ঠ বিষয়। এ বিশ্বাস অনুযায়ী তকদিরের নিয়ন্ত্রক হিসেবে আল্লাহকে মেনে নিতে হবে। ইমানের সপ্তম বিষয় হলো মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করবেন এবং হাশরের মাঠে একত্র করে সবার কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব নেবেন।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ইমাম সাহেব ইমানের মৌলিক বিষয় হিসেবে উপরে আলোচিত সাতটি বিষয়ের প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন।

