- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
'ক' একটি পুরাতন গ্রাম। গ্রামের মসজিদের আঙিনায় একটি ঘর। এখানে জনাব মাওলানা আজিম সাহেব সকালবেলা শিশুদেরকে কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা দেন। তাছাড়া শিশুদের নামাজ আদায় করার নিয়ম, পরস্পর দেখা হলে সালাম দেওয়া, কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা, খাওয়ার পর আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করা ইত্যাদি বিষয় শিক্ষা দেন, যাতে গ্রামের শিশুরা ভবিষ্যতে সুনাগরিক হিসেবে জীবন গড়তে পারে ।
জনাব মাওলানা আজিম সাহেবের শিক্ষায় যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তার সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
জনাব মাওলানা আজিম সাহেবের শিক্ষায় ইসলামি সংস্কৃতির ব্যাবহারিক দিক ফুটে উঠেছে।
ইসলাম অনুমোদিত ও কুরআন-হাদিসে নির্দেশিত মুসলমানদের জীবনপদ্ধতিই হলো ইসলামি সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতির মাধ্যমে মুসলিম জাতির স্বতন্ত্র অস্তিত্ব প্রকাশ পায়। পরস্পর দেখা হলে সালাম দেওয়া, ভালো কাজের শুরুতে 'বিসমিল্লাহ' বলা, খাওয়ার পর আল্লাহর শোকরিয়া করা প্রভৃতি ইসলামি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যাবহারিক দিক; যা মাওলানা আজিম সাহেবের শিক্ষায় লক্ষ করা যায় ।
উদ্দীপকের মাওলানা আজিম সাহেব গ্রামের শিশুদেরকে কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নামাজ আদায়ের নিয়ম, পারস্পরিক সাক্ষাতে সালাম দেওয়া, কাজের শুরুতে 'বিসমিল্লাহ' বলা ও খাওয়ার পর আল্লাহর শোকরিয়া করার শিক্ষা দেন। এগুলো ইসলামি সংস্কৃতির ব্যাবহারিক দিক। ইসলামি সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম। পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাতে সালাম বিনিময় করলে সুসম্পর্ক তৈরি হয় এবং সৌহার্দ ও সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। আল্লাহর নাম নিয়ে কোনো ভালো কাজ শুরু করলে সে কাজে আল্লাহ তায়ালা বরকত দান করেন। খাওয়ার পর আল্লাহর শোকর করার মাধ্যমে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায় । এতে আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়ে রিজিক বৃদ্ধি করে দেন। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে মানুষ সমাজের অপর মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শেখে। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয় । উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, মুসলিমদের দৈনন্দিন জীবনে ইসলামি সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা যায়।

