- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আলাল ও জালাল দুই ভাই। আলাল পার্থিব লোভ-লালসা ও স্বার্থ রক্ষায় এতটাই লিপ্ত যে, মানুষের ক্ষতি করতে পিছপা হয় না। সমাজের মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বেড়ায়। এমনকি তার কথা ও কাজে কোনো মিল নেই। অন্যদিকে জালালের ধারণ পৃথিবীতে যখন মানবতার চরম বিপর্যয় ঘটবে তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের হেদায়েতের জন্য নবি-রাসুল প্রেরণ করবেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত এ ধার অব্যাহত থাকবে।
আলালের কর্মকান্ডে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
আলালের কর্মকাণ্ডে নিফাক প্রকাশ পেয়েছে।
ধোঁকাবাজি, প্রতারণা ইত্যাদি। এর ব্যবহারিক অর্থ হলো অন্তরে এক রকম 'নিফাক' আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ ভণ্ডামি, কপটতা, দ্বিমুখীভাব, ভাব রেখে বাইরে এর বিপরীত অবস্থা প্রকাশ করা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন করে মুখে ইসলামকে স্বীকার করার নাম হলো নিফাক।
আলাল সাহেবও পার্থিক লোভ-লালসা ও নিজ স্বার্থ রক্ষায় সর্বদা ব্যস্ত থাকেন। অন্যের অকল্যাণ করতে তিনি একটুও দ্বিধা করেন না। তিনি দ্বিমুখী নীতিবিশিষ্ট। তার কথা ও কাজে সমাজে সন্দেহ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। আলালের এ সমস্ত কর্মকাণ্ডই মুনাফিকের কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। নিফাক একটি মারাত্মক পাপ, এটি মানুষের চরিত্র ও নৈতিকতা ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে মানুষ মিথ্যাচারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। মুনাফিকরা পার্থিব লোভ-লালসা ও স্বার্থ রক্ষায় মানুষের অকল্যাণ করতেও পিছপা হয় না। তারা পরনিন্দা ও পরচর্চা করে। ফলে সমাজে সন্দেহ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
মুনাফিকরা ভেতরে এক আর বাইরে অন্য রকম হওয়ায় লোকজন তাদের বিশ্বাস করে না বরং সন্দেহ ও ঘৃণার চোখে দেখে। সুতরাং বলা যায়, আলাল সাহেবের কর্মকাণ্ডে মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য বা নিফাক প্রকাশ পেয়েছে।

