- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- আকাইদ ও নৈতিক জীবন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ অনেক মানুষ শহিদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়ে শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়েছেন। এ অভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে যারা বুলেটের মুখ থেকে প্রাণে বেঁচেছেন তারা মহান রবের কাছে মাথা নত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, একমাত্র আল্লাহই তাদের রক্ষা করেছেন, তিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা তাদের ভাগ্যকে মেনে নিয়ে সন্তানদের এমন আত্মত্যাগে গর্ববোধ করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মনোভাবে ইমানের যে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মনোভাবে ইমানের অন্যতম বিষয় তকদির বা ভাগ্যের ওপর বিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে, প্রকৃত মুমিন হওয়ার জন্য যার গুরুত্ব অপরিসীম।
একজন মুসলিমকে ইমানের মৌলিক বিষয়গুলো দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হয়। এগুলো কুরআন ও হাদিস দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। এ বিষয়গুলোতে বিশ্বাস ছাড়া কেউ মুমিন হতে পারে না। এরূপ বিষয় মোট সাতটি। এর মধ্যে তকদির বা ভাগ্যে বিশ্বাস উল্লেখযোগ্য একটি, যার ওপর উদ্দীপকের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা তকদিরের প্রতি বিশ্বাস করেছেন। তারা মনে করেন কারণ ভালো-মন্দ যা কিছু হয় সব আল্লাহর 'পক্ষ থেকে। তাই বিপদে ধৈর্যহারা না হয়ে তারা আল্লাহর ওপর ভরসা করেছেন।
আল্লাহর ওপর এ ভরসা প্রকৃত মুমিনের পরিচায়ক। কারণ মুমিনরা কখনও হতাশ হন না। তারা সব অবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা করেন। বিপদে-আপদে ধৈর্য্যধারণ করেন এবং কোনো কিছু পেলে আল্লাহর শোকর আদায় করেন। তারা জানেন তকদির বা ভাগ্যের ভালো-মন্দ একমাত্র আল্লাহ তায়ালার হাতে। তাই আনন্দে আত্মহারা হওয়া যাবে না বা বিপদে হতাশ হলে চলবে না। সবকিছুর জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। যারা এ বিশ্বাস মনে প্রাণে লালন করেন তারা প্রকৃত মুমিন। আল্লাহ বলেন, "যারা ইমান আনে এবং সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার নিম্নদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। এটাই মহাসাফল্য।" (সূরা আল বুরুজ, আয়া: ১১)
উদ্দীপকের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ইমানদারের পরিচয় দিয়েছেন। তাই তারাও সফলতা লাভ করবেন।

