• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

খতমে নবুয়ত সম্পর্কে তুমি কী জানো?

খতমে নবুয়ত বলতে নবুয়তের সমাপ্তিকে বোঝায়।

মানবজাতির হিদায়াতের জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে বহু নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। এ ক্রমধারা শুরু হয়েছে হযরত আদম (আ)-এর মাধ্যমে এবং শেষ হয়েছে হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাধ্যমে। অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ নবি ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাধ্যমে নবুয়ত ও রিসালাতের দায়িত্ব বন্ধ হয়েছে। নবুয়ত তথা নবি-রাসুল আগমনের এ ক্রমধারাটির পরিসমাপ্তিকেই খতমে নবুয়ত বলা হয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

'রিসালাত' অর্থ কী?

'রিসালাত' অর্থ বার্তা বা সংবাদ বহন।

#

'ক' চিহ্নিত স্থানে কোন জঘন্য পাপকে নির্দেশ করা হয়েছে? চিত্রে উল্লেখ করা বিষয়গুলোর আলোকে এর ব্যাখ্যা দাও।

উদ্দীপকে, 'ক' চিহ্নিত স্থানের বৈশিষ্ট্য দ্বারা শিরককে নির্দেশ করা হয়েছে।

শিরক অর্থ অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করা কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলে। যে ব্যক্তি শিরক করে তাকে মুশরিক বলে। উদ্দীপকে উল্লেখিত চারটি বৈশিষ্ট্যই মহান আল্লাহর সাথে অংশীদারিত্ব প্রকাশ করে। যীশু খ্রিষ্টকে আল্লাহর পুত্র বলে বিশ্বাস করা হলো আল্লাহ তায়ালার সত্তা ও অস্তিত্বের সাথে শিরক করা। কারণ আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তাঁকে কেউ জন্ম দেয়নি এবং তিনিও কাউকে জন্ম দেননি। কারও কাছে সম্পদ ও উন্নতি কামনা করলে আল্লাহ তায়ালার গুণাবলির সাথে শিরক করা হয়। কারণ মহান আল্লাহ হলেন সকল সৃষ্টির রিজিকদাতা, পালনকর্তা ও সমৃদ্ধিদাতা। কাউকে আল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করানোর মাধ্যমে সৃষ্টিজগত পরিচালনায় আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা হয়। আর কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর সামনে মাথা নত করা হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা। তাই উদ্দীপকের চারটি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে জঘন্য অপরাধ শিরককে নির্দেশ করা হয়েছে।

#

পবিত্র কুরআনের আলোকে ওই পাপের কুফল ও প্রতিকার বিশ্লেষণ করো।

পবিত্র কুরআন ও হাদিসে শিরকের ভয়াবহ কুফল বর্ণনা করা হয়েছে।

শিরক অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো শিরক। এ কারণে শিরকের শাস্তিও কঠিন। প্রকৃতপক্ষে এটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। শিরকের কুফল অত্যন্ত মারাত্মক।

আল্লাহ তায়ালা হলেন আমাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালক। তাঁর প্রদত্ত নিয়ামতই আমরা ভোগ করি। এরপরও কেউ যদি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করে তবে তা অপেক্ষা বড় জুলুম আর কিছু হতে পারে না। এ জন্য আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই শিরক বড় জুলুম।' (সুরা লুকমান, আয়াত ১৩) আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি অপার ক্ষমাশীল ও অসীম দয়াময় হওয়া সত্ত্বেও শিরকের অপরাধ ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না।' (সুরা আন-নিসা, আয়াত ৪৮) পরকালে মুশরিকদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল্লাহ বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য অবশ্যই জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম।' (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৭২)

প্রকৃতপক্ষে শিরক ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এরূপ কাজ থেকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। ভুলক্রমে আল্লাহর সাথে শিরক করে ফেললে সাথে সাথে পুনরায় ইমান আনতে হবে। অতঃপর বিশুদ্ধ অন্তরে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আর ভবিষ্যতে এরূপ পাপ না করার শপথ নিতে হবে। তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তায়ালা নিজের দয়া ও করুণায় এ পাপ ক্ষমা করে দিতে পারেন।