- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- কাবুলের শেষ প্রহরে (ভ্রমণ-কাহিনি)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বর্ণনামূলক প্রশ্ন - ০৪
'কাবুলের শেষ প্রহরে' ভ্রমণকাহিনিটির মূল বিষয়বস্তু তোমার নিজের ভাষায় তুলে ধর।
'কাবুলের শেষ প্রহরে' ভ্রমণকাহিনিটি সৈয়দ মুজতবা আলীর 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের শেষ পরিচ্ছেদ থেকে নেওয়া হয়েছে। আফগানিস্তান সরকারের শিক্ষা বিভাগে কাজ করার সময় লেখক কিছুদিন কাবুলে অবস্থান করেন। সেখানে থাকাকালে' তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া কিছু অভিজ্ঞতার কথা তিনি এখানে তুলে ধরেছেন গভীর অনুভূতি দিয়ে।
কাবুল শহরে অবস্থানকালে আবদুর রহমান নামের এক গৃহপরিচারক লেখকের দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। সে ছিল খুবই বিনয়ী, উদার ও নিষ্ঠাবান। গৃহকর্ম ছাড়াও লেখকের দেখভালের প্রতিও তার বিশেষ নজর ছিল। তার সঙ্গে লেখকের একটি গভীর মানবিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু কিছুদিন পর কাবুলে হঠাৎ এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলে খাবার-দাবারসহ সব ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংকট দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে মানুষ নিরাপত্তার স্বার্থে দেশত্যাগ করতে শুরু করে। লেখকও বিমানের একটি টিকিট পান। দেশে ফেরার আগে বিদায় বেলায় আবদুর রহমানের সাথে লেখকের একটি আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। আবদুর রহমান কাবুলে সব সময় লেখকের পাশে পাশে ছিল। তাঁর সব ক্ষেত্রে খেয়াল রেখে চলত। বিদায়ের সময় সে তাই এতটাই কষ্ট পায় যে, কোনো কথা না বলে চুপ হয়ে যায়। বিমানে ওঠার সময় অশ্রুসিক্ত নয়নে লেখককে বারবার বলতে থাকে- 'বৃ খুদা সম্পূর্দমৎ, সায়েব।' অর্থাৎ তোমাকে খোদার হাতে সোপর্দ করলাম। বিমানকে সে প্রচণ্ড ভয় পায়। তাই সে লেখকের জন্য খোদার কাছে আরও বেশি দোয়া প্রার্থনা করতে থাকে। লেখকেরও আবদুর রহমানের প্রতি অদ্ভুত এক মায়া জন্মায়। তাকে তাঁর একান্ত আত্মজন বলে মনে হয়। ফলে তাকে ছেড়ে যেতে মনে হচ্ছিল- কেউ যেন তাঁর সত্তাকে দ্বিখন্ডিত করে ফেলেছে। লেখকের মনে হতে থাকে "প্রত্যেক বিদায় গ্রহণে রয়েছে খন্ড-মৃত্যু।" কেননা, সকল উৎসবে, ধ্যসনে, দুর্ভিক্ষে, রাষ্ট্রবিপ্লবে সব সময় সে লেখকের পাশে পাশে ছিল। তাই তাকে লেখকের পরম বান্ধব মনে হয়।
দয়া, উদারতা, মানুষের প্রতি মানুষের পরম স্নেহ-ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই 'কাবুলের শেষ প্রহরে' ভ্রমণকাহিনিটি। মানুষের প্রতি শুদ্ধতম ভালোবাসার জন্য দেশ, কাল বা জাতি-ধর্ম-বর্ণ যে মুখ্য বিষয় নয়, তাই এখানে উঠে এসেছে। একজন বিদেশি হয়েও আবদুর রহমান লেখকের প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছে তা অসাধারণ। তেমনই একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়েও বিদেশি, গরিব এক গৃহপরিচারকের প্রতি লেখকের যে উদারতা, মানবিকতার প্রকাশ ঘটেছে তা অসামান্য। এজন্যই আফগানিস্তানে লেখকের অনেক উচ্চপদস্থ বন্ধু থাকা সত্ত্বেও আবদুর রহমানকেই তিনি পরম বান্ধব বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাঁর মনে হয়েছে- চতুর্দিকের এত শুভ্র বরফের চেয়েও আবদুর রহমানের পাগড়ি শুভ্রতর ও হৃদয় শুভ্রতম। অর্থাৎ মনের দিক থেকে আবদুর রহমান অনেক বেশি উদার ও মানবিকতার অধিকারী।

