- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- কাবুলের শেষ প্রহরে (ভ্রমণ-কাহিনি)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ০২
মানুষের প্রতি সত্যিকার ভালোবাসার প্রকাশ কোনো জাতি বা শ্রেণিতে আবদ্ধ না হয়ে কীভাবে সর্বদেশের হয়ে ওঠে-'কাবুলের শেষ প্রহরে' গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
পৃথিবীর সকল মানুষই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমান। পৃথিবীর যে প্রান্তেই মানুষ বসবাস করুক না কেন, তাদের বেঁচে থাকার অধিকার, মর্যাদা এবং অনুভূতিগুলো অভিন্ন। মানুষ যদি এই সাধারণ মানবিক মূল্যবোধ উপলব্ধি, করে, তাহলে জাতি, ধর্ম বা শ্রেণি নির্বিশেষে সবাইকেই ভালোবাসা সম্ভব।
পৃথিবীর সব মানুষেরই সুখ, দুঃখ, সংগ্রাম, আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকে, অনুভূতি থাকে। মানুষ যখন এসব অভিজ্ঞতা থেকে একে অপরকে অনুভব করে, তখনই তাদের মধ্যে একটি সাধারণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা জাতি বা ধর্মের সীমা ছাড়িয়ে যায়। বিশ্বের সব মানুষ সমান এবং মানবিক মর্যাদা লাভের অধিকারী। পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি এবং একে অন্যকে সাহায্য করার মনোভাব মানুষের মধ্যে সত্যিকারের ভালোবাসা ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলে। সৈয়দ মুজতবা আলীর 'কাবুলের শেষ প্রহরে' নামক গল্পটিতেও দেখা যায়, লেখক একজন হিন্দুস্তানি হয়েও আফগানি একজন গৃহপরিচারকের সাথে তাঁর মানবিক মূল্যবোধের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কর্মসূত্রে আফগানিস্তানে থাকাকালে আবদুর রহমান নামক এই ব্যক্তি গৃহকর্ম ছাড়াও লেখকের দেখভাল করত। তাঁর সমস্ত কাজ নিষ্ঠার সাথে পালন করত। এক সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে লেখককে সেই দেশ ত্যাগ করতে হয়। বিদায়কালে আবদুর রহমানের সাথে লেখকের এক আবেগঘন অবস্থার সৃষ্টি হয়। লেখকের টেনিস র্যাকেটখানি পর্যন্ত সে সাথে দিতে ভোলে না। লেখকের মঙ্গলার্থে বারবার তাকে খোদাতালার কাছে সোপর্দ করতে থাকে। লেখকেরও দেখা যায় আবদুর রহমানের প্রতি স্নেহ-ভালোবাসার প্রকাশ। লেখকের মতে স্বয়ং চাণক্য যে কয়টা পরীক্ষার উল্লেখ করেছেন আবদুর রহমান সবকটিই উত্তীর্ণ হয়েছে। উৎসবে, ব্যসনে, দুর্ভিক্ষে, রাষ্ট্রবিপ্লবে এমনকি প্রথম দিন থেকে শেষ দিনের বিদায়বেলায় সে লেখকের পাশে ছিল। তার মানবিক মূল্যবোধের দ্বারা লেখকের মন জয় করে নেয়। তাই লেখকও তাকে পরম বান্ধব বলে আখ্যায়িত করেন।
একজন ভিনদেশি মানুষের সাথে এই যে বন্ধুত্বপূর্ণ, সহানুভূতির সম্পর্ক, এটিই হলো মানুষের সত্যিকার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। যদি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহানুভূতি ও সমান মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তবেই সত্যিকার ভালোবাসা জাতি বা শ্রেণির বাধা অতিক্রম করে সর্বদেশীয় হতে পারে যা 'কাবুলের শেষ প্রহরে' গল্পে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
আবদুর রহমান কেন চুপ থাকাটাই পছন্দ করছে? তোমার পঠিত গল্পের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
বেদনাহত মন নিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে আছে বলে আবদুর রহমান কথা বলতে পারছে না। তাই সে চুপ করে থাকাটাই পছন্দ করছে।
সৈয়দ মুজতবা আলীর 'কাবুলের শেষ প্রহরে' একটি ভ্রমণ-কাহিনিমূলক রচনা। কর্মসূত্রে তিনি যখন আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান করছিলেন তখনকার একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে রচনাটি লিখিত। এ সময় আবদুর রহমান নামের এক গৃহপরিচারক লেখকের দেখভাল করত। প্রভু-ভূত্যের বাইরেও যে মানুষে মানুষে একটি উদার মানবিক সম্পর্ক তৈরি হতে পারে রচনাটি এর জ্বলন্ত উদাহরণ। আবদুর রহমান লেখকের প্রতি ছিল অতি যত্নশীল। একসময় দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংকট থেকে পরিত্রাণের জন্য লেখককে নিজ দেশে ফিরে আসতে হয়। কিন্তু চলে যেতে হবে জেনে আবদুর রহমান শোকাহত হয়। সে লেখকের দুহাত নিজের চোখের ওপর চেপে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। রাস্তায় চলার সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য লেখক দু'একবার তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। কিন্তু আবদুর রহমান অশ্রুসিক্ত, বেদনাহত হওয়ায় কিছুই বলতে পারে না। তাই চুপ করে থাকে।
আবদুর রহমান ও লেখকের মধ্যকার উদার মানবিক মূল্যবোধের সম্পর্কই বিদায়বেলায় এক আবেগঘন অবস্থার সৃষ্টি করে যা সকল মানুষের প্রতি ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

