• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • ঔপনিবেশিক যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য
ঔপনিবেশিক যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

হিশাম ও পারিশা ঈদের ছুটিতে মামাবাড়ি বেড়াতে গেল। তারা মামার কাছে স্থানীয় বিখ্যাত নিদর্শনগুলো দেখার বায়না ধরল। মামা তাদেরকে মসলিনের জন্য বিখ্যাত স্থানটি ঘুরতে নিয়ে। গেলেন। তারা সেখানকার প্রাচীন বিভিন্ন ইমারতের স্থাপত্য ও নকশা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল। মামা তাদেরকে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থান হতে প্রাপ্ত পুরাকীর্তিগুলোর নিদর্শন দেখাতে নিয়ে যান যাতে তারা অতীত ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে।

প্রত্নতত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?

'প্রত্ন' শব্দের অর্থ হলো পুরনো বা প্রাচীন। 'তত্ত্ব' হলো- আসল বস্তু; প্রকৃত অবস্থা। প্রত্নতত্ত্ব অর্থ হলো- প্রাচীন বস্তু, পুরনো বস্তু। প্রত্নতত্ত্ব বলতে বোঝায় প্রাচীন স্থাপত্য ও শিল্পকর্ম। মূর্তি বা ভাস্কর্য, অলঙ্কার, প্রাচীন আমলের মুদ্রা, পুরনো মূল্যবান আসবাবপত্র ইত্যাদি।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি কোথায় অবস্থিত?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি কুষ্টিয়ার শিলাইদহে অবস্থিত।

#

তারা যে স্থানটি পরিদর্শন করে সেটির ঐতিহ্য ব্যাখ্যা কর।

হিশাম ও পারিশা যে স্থানটি প্রদর্শন করে সেটি হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁও।

সোনারগাঁও একসময় সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল। পরবর্তী মুঘল যুগে এর গুরুত্ব কমে যায়। কিন্তু তখনও মসলিন শাড়ির উৎপাদন ও ব্যবসায় কেন্দ্র হিসেবে এর খ্যাতি ছিল। উনিশ শতকে ধনী ব্যবসায়ীদের অনেকে বসবাসের জন্য সোনারগাঁওয়ের পানাম এলাকাটি বেছে নেন। এরা পানামের মূল সড়কের দুপাশে সারিবদ্ধভাবে অনেকগুলো ইমারত নির্মাণ করেন। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এ ভবনগুলোতে ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতি অনুসরণ করা হয়। তবে এদের নির্মাণকলায় মুঘল স্থাপত্যেরও প্রভাব আছে। অট্টালিকাগুলো সাজানো হয়েছিল রঙিন মোজাইকে। পানামের আশপাশে আরও কয়েকটি চমৎকার ইমারত এখনও টিকে আছে। এগুলোর মধ্যে সরদারবাড়ি বা বড় সরদারবাড়িতে এখন স্থাপিত হয়েছে লোকশিল্প জাদুঘর। রঙিন মোজাইকের নানা কারুকাজে শোভিত হয়েছে সরদারবাড়ি। সুতরাং হিশাম ও পারিশার প্রদর্শিত স্থানটি স্থাপত্য শিল্প ও সাংস্কৃতিক শিল্পের প্রেক্ষিতে একসময় সোনারগাঁও বিখ্যাত ছিল।

#

মামা তাদের কোথায় নিলে তারা ঐতিহ্য সচেতন হতে পারবে তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মতামতসহ ব্যাখ্যা কর।

উক্ত উদ্দীপকে মামা তাদের অর্থাৎ হিশাম ও পারিশাকে জাতীয় জাদুঘরে অথবা যেকোনো প্রত্নস্থলের জাদুঘরে নিলে তারা ঐতিহ্য সচেতন হতে পারবে বলে আমি মনে করি।

কেননা বাংলাদেশের পুরাকীর্তিগুলো থেকে পাওয়া অনেক প্রত্ননিদর্শন জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয়। তাই এসব প্রত্নসম্পদ দেখে দেশের পুরনো ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। যেমন- ঢাকায় রয়েছে আমাদের জাতীয় জাদুঘর। এছাড়া নানা প্রত্নস্থলের জাদুঘরেও রয়েছে প্রচুর প্রত্নসম্পদ। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের গ্যালারিতে সারা দেশে প্রত্ননিদর্শনের সঙ্গে প্রদর্শন করা হয়েছে বাংলার নবাব, জমিদার ও ইংরেজ শাসনকালের বেশ কিছু প্রত্নসম্পদ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দিনাজপুরের মহারাজার ব্যবহার করা দ্রব্য ও হাতির দাঁতের করুকাজ করা শিল্পদ্রব্য। বলধার জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর সংগ্রহ থেকে আনা পোশাক, হাতির দাঁতের নানা কারুকাজ ও ঢাল-তলোয়ার। তাছাড়া এখানে রাখা হয়েছে নাটোরের দিঘাপতিয়ার জমিদারদের ব্যবহার করা দ্রব্য, পোশাক, ঢাল-তলোয়ার ও সিংহাসন এবং ঢাকার নওয়াবদের ব্যবহার করা কারুকার্যখচিত পোশাক ও জিনিসপত্র। এছাড়া কোনো কোনো আঞ্চলিক জাদুঘর ও সংগ্রহশালায় নানা প্রত্ননিদর্শন প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। অতএব বলা যায়, মামা তাদের এসব স্থানে নিলে তারা ঐতিহ্য সচেতন হতে পারবে।