- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
দৃশ্যপট-১: 'ক' অঞ্চলের রাজা অল্পবয়সী ও কম অভিজ্ঞ হওয়ায় তিনি সকলকেই বিশ্বাস করতেন। তার সরলতার সুযোগে নিকট আত্মীয়, দেশীয় ও ভিনদেশি লোক ষড়যন্ত্র করে তাকে হত্যা করে। কিন্তু পরিণামে দেশীয়রা ভিনদেশিদের অধীনস্থ হয়। তারা নিজ স্বার্থে শাসন ব্যবস্থা চালু করে।
দৃশ্যপট-২: বিদেশি শক্তি 'খ' অঞ্চলকে একটি মাত্র কেন্দ্র হতে শাসন করা কঠিন মনে করে। ওই অঞ্চলের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দীর্ঘদিন অঞ্চলটিকে শাসন করার উদ্দেশ্যে দুটি ভাগে বিভক্ত করে।
'ক' অঞ্চলের রাজার পরিণতি বাংলার ঐতিহাসিক কোন ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলের রাজার পরিণতি বাংলায় পলাশী যুদ্ধের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব আলিবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর তাঁর প্রিয় নাতি সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসলে ক্ষমতার অন্য উত্তরাধিকারীরা মনোক্ষুণ্ণ হয়। সিরাজউদ্দৌলার বয়স কম ও অভিজ্ঞতায় নবীন হওয়ার ফলে রাজদরবারে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তার সেনাপতি মীর জাফর, খালা ঘসেটি বেগম, মীর কাসিমসহ রাজদরবারের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ এবং উমিচাঁদ, জগৎশেঠ ও রাজবল্লভদের মতো তৎকালীন ধনী অভিজাতদের একটি অংশ ষড়যন্ত্র করে। ফলে ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ঘটে। নবাবের নির্মম মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলার মূল ক্ষমতা চলে যায় ধূর্ত ও দুর্ধর্ষ ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের হাতে। 'দি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' বাংলা বিহার উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে। পরিণামে এ অঞ্চলের মানুষ ভিনদেশিদের অধীনস্ত হয়ে পড়ে। ইংরেজ কোম্পানি নিজেদের স্বার্থে শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনয়ন করে। দ্বৈতশাসনের নামে শোষণের মাধ্যমে বাংলায় দুর্ভিক্ষ ঘটায়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলের রাজার পরিণতি বাংলার ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

