- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
দৃশ্যপট-১: 'ক' অঞ্চলের রাজা অল্পবয়সী ও কম অভিজ্ঞ হওয়ায় তিনি সকলকেই বিশ্বাস করতেন। তার সরলতার সুযোগে নিকট আত্মীয়, দেশীয় ও ভিনদেশি লোক ষড়যন্ত্র করে তাকে হত্যা করে। কিন্তু পরিণামে দেশীয়রা ভিনদেশিদের অধীনস্থ হয়। তারা নিজ স্বার্থে শাসন ব্যবস্থা চালু করে।
দৃশ্যপট-২: বিদেশি শক্তি 'খ' অঞ্চলকে একটি মাত্র কেন্দ্র হতে শাসন করা কঠিন মনে করে। ওই অঞ্চলের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দীর্ঘদিন অঞ্চলটিকে শাসন করার উদ্দেশ্যে দুটি ভাগে বিভক্ত করে।
"দৃশ্যকল্প-২-এ উল্লিখিত ঘটনাটির অনুরূপ ঘটনার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট আন্দোলন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করে" মতামত দাও।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২-এ উল্লিখিত ঘটনার অনুরূপ ঘটনা হলো বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনা।
বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট আন্দোলন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করে। ইংরেজ শাসকগোষ্ঠী বৃহত্তর বাংলাকে ভাগ করতে পরিকল্পনা করল। তাদের যুক্তি ছিল যে, বাংলার সীমানা অনেক বড়। পূর্ব বাংলা, পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে ছিল বৃহত্তর বাংলা। তাই কলকাতা থেকে শাসনকার্য পরিচালনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারণে পূর্ব বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। তাই লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাকে দুভাগে ভাগ করেন। ঢাকাকে রাজধানী করে নতুন প্রদেশ করা হয়। এই প্রদেশের নাম হয় পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ। বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধে আন্দোলন শুরু হয়। কলকাতাকেন্দ্রিক শিক্ষিত বাঙালিদের অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ তৈরির পরিকল্পনা বলে মনে করেন। কারণ পূর্ব বাংলার বেশিরভাগ মানুষ মুসলমান। তাই মুসলমান নেতারা মনে করলেন নতুন প্রদেশ হলে পূর্ব বাংলার উন্নতি হবে। ফলে বাঙালি হিন্দু নেতারা একের পর এক চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্দোলন শুরু করেন। এগুলো হচ্ছে স্বদেশি আন্দোলন, বয়কট আন্দোলন; স্বরাজ এবং সশস্ত্র আন্দোলন। পূর্ব বাংলার মুসলিমদের মধ্যে নতুন ভাবনা সৃষ্টি হলে ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ইংরেজদের অভিসন্ধি দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করলেও পরবর্তীতে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে এবং ঐক্যকমভাবে ব্রিটিশদের শাসন থেকে মুক্তির আন্দোলনে পরিণত হয়।
তাই বলা যায়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত বীজ রোপিত হয়েছিল ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনায়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' কাকে বলে?
১৭৭০ সালে (বাংলা ১১৭৬ সনে) বাংলায় যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল তা ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
বাংলার নবজাগরণে স্যার উইলিয়াম কেরির অবদান ব্যাখ্যা কর।
বাংলার নবজাগরণে ইংরেজ মিশনারি স্যার উইলিয়াম কেরি উল্লেখযোগ্য ও গুরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ব্যাকরণ রচনা, মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্র প্রকাশ, স্কুল টেক্সট বোর্ড গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজের গোড়াপত্তন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ইংরেজরা উচ্চ শিক্ষার জন্য সারাদেশে স্কুল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কিছু কলেজও স্থাপন করে। ১৮৫৭ সালে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়।
'ক' অঞ্চলের রাজার পরিণতি বাংলার ঐতিহাসিক কোন ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলের রাজার পরিণতি বাংলায় পলাশী যুদ্ধের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব আলিবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর তাঁর প্রিয় নাতি সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসলে ক্ষমতার অন্য উত্তরাধিকারীরা মনোক্ষুণ্ণ হয়। সিরাজউদ্দৌলার বয়স কম ও অভিজ্ঞতায় নবীন হওয়ার ফলে রাজদরবারে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তার সেনাপতি মীর জাফর, খালা ঘসেটি বেগম, মীর কাসিমসহ রাজদরবারের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ এবং উমিচাঁদ, জগৎশেঠ ও রাজবল্লভদের মতো তৎকালীন ধনী অভিজাতদের একটি অংশ ষড়যন্ত্র করে। ফলে ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ঘটে। নবাবের নির্মম মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলার মূল ক্ষমতা চলে যায় ধূর্ত ও দুর্ধর্ষ ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের হাতে। 'দি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' বাংলা বিহার উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে। পরিণামে এ অঞ্চলের মানুষ ভিনদেশিদের অধীনস্ত হয়ে পড়ে। ইংরেজ কোম্পানি নিজেদের স্বার্থে শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনয়ন করে। দ্বৈতশাসনের নামে শোষণের মাধ্যমে বাংলায় দুর্ভিক্ষ ঘটায়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলের রাজার পরিণতি বাংলার ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

