- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
চিত্র-১: ২য় বিশ্বযুদ্ধের গণহত্যার দৃশ্য
চিত্র-২: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যৌথবাহিনীর অভিযানের দৃশ্য
চিত্র-২ এ উল্লিখিত বাহিনীর কার্যক্রমই কি এদেশের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত করেছিল? বিশ্লেষণ কর।
হ্যাঁ, উদ্দীপকে চিত্র-২-এ উল্লিখিত বাহিনী অর্থাৎ যৌথবাহিনীর কার্যক্রমই এদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত সরকার একটি যৌথবাহিনী গঠন করে। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথবাহিনী গঠিত হয়। যুদ্ধকালীন মুক্তিবাহিনীর সহায়তাকারী ভারতীয় বাহিনীকে মিত্রবাহিনী বলা হতো। যৌথবাহিনী গঠনের ফলে যুদ্ধ দারুণ গতি লাভ করে। যৌথবাহিনীর অধীনে বাংলাদেশ সীমারে আক্রমণ শুরু হয়। ৭ই ডিসেম্বর যৌথবাহিনী যশোর বিমানবন্দর দখদ করে। ৮ থেকে ৯ই ডিসেম্বরের মধ্যে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালী শহরে যৌথবাহিনীর দখলে আসে। ১১ থেকে ১২ই ডিসেম্বরের মধ্যে যৌথবাহিনীর হাতে ময়মনসিংহ, হিলি, কুষ্টিয়া, খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর ও সিরাজগঞ্জ মুক্ত হয়। ১২ই ডিসেম্বর ঢাকায় বিভিন্ন সামরিক অবস্থানের উপর যৌথবাহিনী বিমান হামলা চালায়। যৌথবাহিনী চারদিক থেকে ঢাকা অভিমুখে রওয়ানা হয়। এরই মধ্যে দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন রণাঙ্গনে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ শুরু হয়ে যায়। ১৪ই ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা ছাড়া দেশের অন্যত্র বড় বড় শহর ও সেনানিবাসে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। ঢাকা শহরের চারদিক তখন যৌথবাহিনী ঘেরাও করে রাখে। ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে খোলা আকাশের নিচে আত্মসমর্পণ করে।
পরিশেষে বলা যায়, যৌথবাহিনীর কার্যক্রমই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল।

